প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘১০ টাকার বেশি নয়’—৪০ টাকার টোল প্রত্যাখ্যান, দেবীদ্বারে সিএনজি চালকদের বিক্ষোভ

অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে দেবীদ্বার-চান্দিনা সড়কের বাগুর এলাকায় সিএনজি চালকদের বিক্ষোভ ও দুই ঘণ্টার সড়ক অবরোধ।
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক :

৪০ টাকার টোলে ক্ষোভ: দেবীদ্বারে সিএনজি চালকদের দুই ঘণ্টার সড়ক অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে অবসান

অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগে বিক্ষোভ; আজ বৈঠকে সমাধানের আশ্বাস, ততক্ষণ বন্ধ থাকবে টোল আদায়

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত পৌর টোল (জিপি) আদায়ের অভিযোগে চালকরা দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করলেও দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেবীদ্বার-চান্দিনা সড়কের বাগুর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন সিএনজি চালকরা। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি জানান, আগামী রোববার (২ আগস্ট) পৌর প্রশাসকের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এছাড়া আলোচনার আগে নতুন হারে কোনো টোল (জিপি) আদায় না করার জন্য ইজারাদারদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিএনজি চালক, যাত্রী ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টোল (জিপি) আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে যানজট নিরসন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সিএনজি, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস চলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পৌরসভা সাতটি স্ট্যান্ড পুনরায় ইজারা দেয়। গত ৩০ জুলাই এসব স্ট্যান্ড প্রায় দেড় কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদাররা ৩১ জুলাই থেকে বিভিন্ন সড়কে প্রতি ট্রিপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত টোল আদায় শুরু করেন। তবে এখনো বিভিন্ন রুটে যাত্রীভাড়া নির্ধারণ না হওয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) জানান, সাতটি স্ট্যান্ডের ইজারা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রস্তুত হয়নি। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আপাতত দেওয়া সম্ভব নয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সিএনজি চালক শরিফুল ইসলাম, আব্দুল আলীম, মো. রাজু, রবিউল, বিল্লাল ও নজরুল ইসলাম বলেন, “আগে আমরা নিজেরাই যানজট নিয়ন্ত্রণে লোক নিয়োগ করে ১০ টাকা করে জিপি দিতাম। এখন হঠাৎ ৪০ টাকা টোল নেওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ১০ টাকার বেশি এক টাকাও দেব না। দাবি আদায় না হলে আরও বড় আন্দোলনে নামব।”

দেবীদ্বার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়ল উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সে সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ব্যস্ত থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “চালকদের অভিযোগ, আগে তারা ১০ থেকে ২০ টাকা দিতেন, এখন ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত টোল আদায় স্থগিত রেখে পৌর প্রশাসকের উপস্থিতিতে আলোচনা করে কোন রুটে কত টোল এবং কত ভাড়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপরই কার্যক্রম চালু হবে।”

প্রিন্ট করুন