
“প্রকৌশলী না থাকায় ভুলে খোলা হয় সংযোগের নাট—অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ২০ জন, বিচ্ছিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ”
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু মেরামতের সময় হঠাৎ ধসে ইটবোঝাই একটি বাল্কহেডের ওপর পড়ে গেছে। এ ঘটনায় বাল্কহেডে থাকা চালক, সুকানি, সহকারীসহ ২০ জন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও সেতু ধসে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে খিরাই নদের খামারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাল্কহেডের মালিক ও সুকানি জুয়েল পাটোয়ারী জানান, ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ইট নিয়ে তিনি গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যায় খামারপাড়া বেইলি সেতুর নিচে পৌঁছানোর মুহূর্তে বিকট শব্দে পুরো সেতুটি বাল্কহেডের ওপর ভেঙে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে তীরে উঠলেও তাদের নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, কাপড়সহ প্রয়োজনীয় মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বাল্কহেডটিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাল্কহেডের শ্রমিক কাশেম মিয়া জানান, প্রাণে বাঁচলেও তাদের কাছে থাকা সবকিছু নদীতে হারিয়ে গেছে। অর্থ না থাকায় দুর্ঘটনার পর রাত থেকে না খেয়েই থাকতে হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মজনু মিয়ার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির পাটাতন মরিচা পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এলজিইডির উদ্যোগে মেরামতকাজ চলছিল। তবে ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকায় শ্রমিকরা না বুঝেই সেতুর সংযোগের নাট খুলে ফেলেন। এতে পুরো বেইলি সেতু ধসে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর মেরামতকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সেতু ধসে পড়ার ফলে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দাউদকান্দির পাশাপাশি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

