
‘গণমাধ্যমের কাজ ক্ষমতার প্রশংসা নয়, জবাবদিহি নিশ্চিত করা’
রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা, তাদের কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক ও নির্ভীক সমালোচনা করাই প্রকৃত সাংবাদিকতার মূল চেতনা বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, এ ধরনের সাংবাদিকতাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর পৌর মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় তিনি বলেন, “সত্য প্রকাশের সাহসই সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি। গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা। কিন্তু বর্তমানে দেশে সৎ, বস্তুনিষ্ঠ ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।”
বর্তমান সাংবাদিকতার নানা সংকটের কথা তুলে ধরে শরিফুল আলম চৌধুরী বলেন, দলীয়করণ, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা এবং তথ্যসন্ত্রাসের কারণে পেশাটির মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা কখনোই সমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। বস্তুনিষ্ঠতার প্রশ্নে সাংবাদিকদের কোনো আপস করা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কোনো রাজনৈতিক দল, সরকার, বিশেষ গোষ্ঠী বা কোনো প্রভাবশালী মহলের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে পারে না। “একজন সাংবাদিকের একমাত্র দায়বদ্ধতা জনগণের প্রতি। জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং সত্য তুলে ধরাই গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব।”
দেশের গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অতীতের নানা রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণমাধ্যমের একটি অংশ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। এর ফলে জনগণের সঙ্গে গণমাধ্যমের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “ক্ষমতাসীনদের কঠিন প্রশ্ন করার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়লে গণতন্ত্রও দুর্বল হয়ে যায়। সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো ভয়-ভীতি কিংবা প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সত্য তুলে ধরা এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের শক্তি ক্ষয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। তাই স্বাধীন, সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই।”

