প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিসিএসআইআর-এর নাম ভাঙিয়ে ‘আশ-শিফা’ তেলের নামে মারাত্মক প্রতারণা, চর্মরোগে আক্রান্ত ভুক্তভোগীরা!

ফাঁদ ১৬০০ টাকার আশ-শিফা তেল: প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী, ত্বক বিকল হওয়ার অভিযোগ!
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী :

প্রতারণামূলক এই ভুয়া পণ্য থেকে সবাই সাবদান

ফাঁদ ১৬০০ টাকার আশ-শিফা তেল: প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী, ত্বক বিকল হওয়ার অভিযোগ!

‘আশ-শিফা’ পেইন রিলিফ অয়েল কি শুধুই প্রতারণা? বিসিএসআইআর-এর নাম ভাঙিয়ে হাজারো মানুষের অর্থ আত্মসাৎ

বাত ব্যথা কমানোর নামে ভূয়া ‘আশ-শিফা’ তেল: উপকার দূরে থাক, দেখা দিচ্ছে চর্মরোগ!

ফেসবুক পেজের চটকদার বিজ্ঞাপনে ধোঁকা: পেইড কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ভুয়া তেলের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি

১৬০০ টাকায় ২ বোতল, গায়ে লেখা ১৪৫০! ‘আশ-শিফা’ তেলের নামে অভিনব ডিজিটাল জালিয়াতি

বিসিএসআইআর-এর নাম ভাঙিয়ে ‘আশ-শিফা’ তেলের নামে মারাত্মক প্রতারণা, চর্মরোগে আক্রান্ত ভুক্তভোগীরা!

অনলাইনে বিসিএসআইআর (BCSIR) পরীক্ষিত এবং শতভাগ ভেষজ উপাদানে তৈরি দাবি করে বিক্রি করা হচ্ছে ‘আশ-শিফা পেইন রিলিফ অয়েল’। তবে বাস্তবে বাত বা অস্থিসন্ধির ব্যথায় এর কোনো নিরাময়ক্ষমতা চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রমাণিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চটকদার বিজ্ঞাপন আর কিছু অর্থলোভী পেইড কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রচারণায় বিশ্বাস করে শত শত মানুষ আজ প্রতারিত ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে।

কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে দেলোয়ারা বেগম নামে এক গৃহিণী দৈনিক আজকের কথা-কে জানান তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, “ফেসবুকের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে ১৬০০ টাকায় দুটি তেল অর্ডার করি। তেল হাতে পেয়ে দেখি প্রতিটির গায়ে মূল্য লেখা ১৪৫০ টাকা! তখনই সন্দেহ হয়। পরে ব্যবহার করে কোনো উপকার তো পাই-ই নি, উল্টো গায়ের চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। ত্বকে চুলকানি ও খোসপাঁচড়া দেখা দিয়েছে।”

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অজ্ঞাত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন পণ্য ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

ভুক্তভোগী দেলোয়ারা বেগম ও সাধারণ সচেতন মহলের দাবি—ভুয়া ‘আশ-শিফা’ তেল উৎপাদনকারী, বিক্রয়কারী এবং টাকার বিনিময়ে মানুষকে বিভ্রান্তকারী সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

‘আশ-শিফা’ তেল সম্পর্কে ব্যবহারকারীর এই অভিযোগের পর, পণ্যটি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখানে—-

১. কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব

যেকোনো ওষুধ বা চিকিৎসা পণ্য ব্যবহারের আগে তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ‘আশ-শিফা’ পেইন রিলিফ অয়েলের কার্যকারিতা এবং এর প্রস্তুতকারকদের দেওয়া দাবি কোনো স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্বারা প্রমাণিত নয়। এ ধরনের পণ্যের গুণমান এবং সুরক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

২. বিসিএসআইআর (BCSIR) সম্পর্কিত অসত্য দাবি

কিছু ফেসবুক পেজে দাবি করা হচ্ছে যে, এই পণ্যটি বিসিএসআইআর (Bangladesh Council of Scientific and Industrial Research) দ্বারা পরীক্ষিত। তবে এই দাবির কোনো সত্যতা বা দালিলিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এ ধরনের অসত্য তথ্য গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে পারে।

৩. স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতিকর প্রভাব

এই তেল ব্যবহারের ফলে কোনো উপকার হওয়া দূরের কথা, উল্টো ত্বকের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ব্যবহারের কারণে ব্যবহারকারীর ত্বকের ক্ষতি হয়েছে এবং খোসপাঁচড়া দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

৪. প্রতারণামূলক বিপণন কৌশল

পণ্যটির প্রচারণার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় চটকদার বিজ্ঞাপন এবং পেইড কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি একটি বিপণন কৌশল যা সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে পণ্যের বাস্তব কার্যকারিতা এর দ্বারা নিশ্চিত হয় না।

পণ্যটি কেনার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে, আপনার কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত:

সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

  • ডাক্তারের পরামর্শ: বাত বা অস্থিসন্ধির ব্যথার মতো কোনো শারীরিক সমস্যায় ভোগলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
  • পরীক্ষিত পণ্য ব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফার্মেসিতে পাওয়া স্বীকৃত ও নিবন্ধিত ওষুধ ব্যবহার করুন।
  • আইনি ব্যবস্থা: এ ধরনের প্রতারণামূলক পণ্য এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ করতে পারেন।

আপনার সচেতনতাই আপনাকে এ ধরণের প্রতারণা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

প্রিন্ট করুন