প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

আসামিরা সৌদি-কাতারে, পুলিশের চোখে মিছিল করেছে দেবীদ্বারে

আসামিরা সৌদি-কাতারে, পুলিশের চোখে মিছিল করেছে দেবীদ্বারে
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী :

ভিডিও দেখে শনাক্তের দাবি; এক বছরের বেশি সময় ধরে বিদেশে থাকা তিন প্রবাসীকেও মামলায় আসামি, সমালোচনার মুখে পুলিশের তদন্ত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরব ও কাতারে অবস্থানরত তিন প্রবাসীকে আসামি করায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, গত শনিবার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ইউসুফপুর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা চলে গেলেও পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে ২৩ জনকে শনাক্ত করে মামলা করা হয়।

তবে মামলার আসামি দেবীদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রুবেল, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম এবং পৌর ছাত্রলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. শাওনের পরিবারের দাবি, তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই কাতার ও সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ফলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

রোববার দেবীদ্বার থানার এসআই অপু বড়ুয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এতে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার সকালে ইউসুফপুর এলাকায় ৩৫-৪০ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা চলে যান। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে মাত্র ১০-১২ জনকে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। এ অবস্থায় বিদেশে অবস্থানরত তিনজনকে কীভাবে শনাক্ত করা হলো—এ প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মামলার ৬ নম্বর আসামি ইকবাল হোসেন রুবেল দীর্ঘদিন ধরে কাতারে রয়েছেন। ৭ নম্বর আসামি সাইদুল ইসলাম এবং ৯ নম্বর আসামি মো. শাওন সৌদি আরবে কর্মরত।

সাইদুল ইসলামের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বলেন, “আমার ভাই গত বছরের ৩১ মে সৌদি আরব গেছেন। দেশে না থেকেও মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাকে আসামি করা হয়েছে, যা বিস্ময়কর।”

কাতার থেকে ফেসবুক লাইভে এসে ইকবাল হোসেন রুবেল বলেন, “যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিদেশে থাকা আমিসহ তিনজনকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। পুলিশ যে ভিডিও দেখে শনাক্তের কথা বলছে, সেখানে আমাদের কাউকেই দেখা যায় না।”

অন্যদিকে, মো. শাওনের মা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, তাঁর ছেলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি সৌদি আরবে গেছেন। এখন তাকে মিছিলের মামলায় আসামি করা হয়েছে শুনে তিনি হতবাক।

এ মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু তাহের সরকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, ভিডিওতে তাঁকেও দেখা যায় না।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত মামলা নিতে হয়েছে। তাই আসামিদের কেউ বিদেশে আছেন কি না, তা আগে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”

বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিডিও দেখে শনাক্তের ভিত্তিতে মামলা দায়ের এবং পরে পুলিশ কর্তৃক বিদেশে থাকার তথ্য যাচাইয়ের কথা স্বীকার করায় ঘটনাটি নিয়ে দেবীদ্বারজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

প্রিন্ট করুন