
কুমিল্লার দেবীদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার বহুল আলোচিত জনদুর্ভোগের সড়ক মধুমুড়া-খুরুইল সংযোগ সড়ক নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. সাকিব হাসান। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি দুই উপজেলার সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংস্কারবঞ্চিত থাকায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি।
মুরাদনগর উপজেলার খুরুইল নোয়াব মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. আল আমিন বলেন, এই সড়কটি দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেবীদ্বার উপজেলার পদ্মকোট, বল্লভপুর, উজানীজোড়া, উজানীকান্দী, নোয়াখোলা, গাংচর ও বুটিয়াকান্দী এবং মুরাদনগর উপজেলার খুরুইল, কৃষ্ণপুর, সিদ্ধেশ্বরী, বাঁশকাইট, উড়িষ্যা, পাহাড়পুর ও পান্তিসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন।

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কেউ এই রাস্তার দিকে নজর দেয়নি। এখন একজন তরুণ নিজের অর্থে ইট-বালু ফেলে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করেছেন। আমরা তাঁর জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি। আমাদের বিশ্বাস, এ ধরনের মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সেবা পাবে।”
স্থানীয় সিএনজি চালক আব্দুর রশিদ বলেন, আগে যাত্রী পারাপারে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সাকিব ভাই ইট-বালু ফেলে রাস্তার বড় বড় খানাখন্দ ভরাট করায় এখন চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সাকিব হাসান এর আগেও এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙাচোরা সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করেছেন।
পিকআপ ভ্যানচালক আলী হোসেন বলেন, ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ হতো। মাটির রাস্তা হওয়ায় প্রায়ই ছোট যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটত। স্থানীয় মানুষের এই দুর্ভোগ দেখে সাকিব হাসান নিজ উদ্যোগে কংক্রিট, ইট ও বালু ব্যবহার করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, “সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি আমি যৌতুক, বাল্যবিয়ে ও মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনেও কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের জনহিতকর কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”
স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী সংস্কারে আপাতত দুর্ভোগ কমলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত মধুমুড়া-খুরুইল সংযোগ সড়কটি পাকাকরণ করা প্রয়োজন।

