
নভেম্বরের মধ্যে আইন না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সাংবাদিক সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন,
“সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ চাইবেন, অথচ তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবেন না—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের জন্য কোনো সরকারই কার্যকরভাবে কিছু করেনি। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের গত ৫৫ বছর ধরে নানা আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।”
তিনি বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। সাংবাদিকতা পেশার অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে গণমাধ্যম অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আহমেদ আবু জাফর আরও বলেন, দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাংবাদিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলোরও যথাযথ বিচার হচ্ছে না। অনেক আসামি জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হলেও অধিকাংশ হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের হেনস্তা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি খেয়াল রাখবেন।
তিনি বলেন,
“আমি সাংবাদিকদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব।”
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন মন্টির সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক সহিদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান এবং দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা সিকান্দার আলী কাবুল এবং কেন্দ্রীয় নেতা ফাতেমা আক্তার।
১১১ সদস্যের কমিটির পরিচিতি
অনুষ্ঠানে নবগঠিত কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদ ও সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যের পর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক সংগঠনের সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
এ সময় মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ১০ জন সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।

