প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্ব বাটপার ইউনূসের আমল থেকে বাংলাদেশে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা, উদ্বেগ জাতিসংঘের

ইউনূসের আমল থেকে বাংলাদেশে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা, উদ্বেগ জাতিসংঘের
আজকের কথা ডেস্ক

বিশ্ব বাটপার মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে চলে আসা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে ঘিরে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের নতুন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS) বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সক্রিয় সেল বা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষক দল।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের Analytical Support and Sanctions Monitoring Team-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত S/2026/651 নম্বরের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত আল-কায়েদা, আইএসআইএল ও সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ও হুমকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, AQIS একটি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত সংগঠন থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপ নিচ্ছে। বড় সাংগঠনিক ইউনিটের পরিবর্তে ছোট, ছড়িয়ে থাকা ও বিকেন্দ্রীভূত সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার দিকে ঝুঁকছে সংগঠনটি। পাশাপাশি নিজেদের কার্যক্রম সচল রাখতে লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশকে ঘিরে বিশেষ উদ্বেগ

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল বলেছে, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে AQIS সক্রিয় সেল বা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে—এমন উদ্বেগ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নে বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই তথ্য সামনে আসার পর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—দেশ কি আবারও জঙ্গিবাদী তৎপরতার পুরোনো ঝুঁকির দিকে এগোচ্ছে? কেউ কেউ ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়কার জঙ্গি তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন।

বিশেষ করে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই যে বিতর্ক ছিল, জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার পর তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইউনূস সরকার বা কোনো কথিত গোপন চুক্তিকে AQIS-এর বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

দিল্লির লালকেল্লা হামলাতেও AQIS-এর নাম

প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে সংঘটিত হামলার প্রসঙ্গও এসেছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই হামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে AQIS-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দিল্লির ওই হামলার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড AQIS-এর সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনেছে। সংগঠনটি এখন বড় ইউনিটের বদলে ছোট ছোট সেল, আর্থিক চ্যানেল ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের ওপর বেশি নির্ভর করছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি হুমকি বাড়ার আশঙ্কা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী আল-কায়েদা ও আইএসআইএল-এর হুমকির মাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল ও দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসী হুমকি আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আল-কায়েদার ক্ষেত্রে বড় আকারের আন্তর্জাতিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ও অভিপ্রায় কতটা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংগঠনটির আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এবং ছোট সেলভিত্তিক কার্যক্রমকে নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইএসআইএল নিয়েও সতর্কবার্তা

শুধু আল-কায়েদা নয়, আইএসআইএল ও এর আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়েও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। ছোট সেল, অনলাইন যোগাযোগ, উগ্রবাদী প্রচারণা এবং বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব সংগঠন তাদের কার্যক্রম ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ও আইএসআইএলের রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির প্রতি দীর্ঘদিনের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা অর্জনে সংগঠনগুলো এখনও বিভিন্ন বাধার মুখে রয়েছে বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

নতুন করে প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি

জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম আসায় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে AQIS যদি ছোট ছোট সেল ও বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে প্রচলিত বড় সংগঠনভিত্তিক নজরদারির পাশাপাশি অনলাইন যোগাযোগ, অর্থায়ন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের ওপরও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ফলে ইউনূসের আমল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন—বাংলাদেশে AQIS-এর সম্ভাব্য সেল গঠনের চেষ্টা কতটা বাস্তব, এর পেছনে কারা রয়েছে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বাংলাদেশ অবশ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে আসছে।

প্রিন্ট করুন