প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাংবাদিক দেখলেই ‘এড়িয়ে যান’ কুমিল্লার ডিসি! বক্তব্য চাইলে পাঠান এডিসির কাছে, ফোনেও মেলে না সাড়া

কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়; সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ ও বক্তব্য না দেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারকে ঘিরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজকের কথা ডেস্ক

সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ না দেওয়ার অভিযোগ কুমিল্লার ডিসির বিরুদ্ধে

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, যিনি সাংবাদিক দেখলেই এড়িয়ে যান। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ না দেওয়া, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, ফোনে সাড়া না দেওয়া এবং বক্তব্যের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন।

দৈনিক আমার দেশ-এর কুমিল্লা প্রতিনিধি এম হাসান মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে তার কাছ থেকে ভিজিটিং কার্ড নেওয়া হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাননি বলে দাবি করেন।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ডিবিসি নিউজের কুমিল্লা প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন। নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে তিনি কার্যালয়ে গেলে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। পরে তাকেও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়।

নাসির উদ্দিনের দাবি, তিনি জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নেওয়ার আগ্রহের কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিয়েই প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়েছে।

এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিক নেতাদের মতে, জেলা প্রশাসক একটি জেলার প্রশাসনিক প্রধান। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হলে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা যাতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযথা হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার মুখে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

প্রিন্ট করুন