প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাদক নির্মূলে মুরাদনগর ওসির নতুন উদ্যোগ, থানায় বসলো ‘অভিযোগ বক্স’

পরিচয় গোপন রেখে মাদকের তথ্য দিন—মুরাদনগর থানায় ওসি আনোয়ারের ‘অভিযোগ বক্স’
অনলাইন ডেস্ক

মাদক ব্যবসা, সেবন ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা পুলিশ। মাদকসংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে থানার সামনে স্থাপন করা হয়েছে ‘অভিযোগ বক্স’।

শনিবার (১৫ আগস্ট) মুরাদনগর থানা ভবনের সামনে এ অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী কিংবা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে যে কোনো নাগরিক লিখিত তথ্য অভিযোগ বক্সে জমা দিতে পারবেন। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। ফলে পরিচয় প্রকাশের আশঙ্কা ছাড়াই স্থানীয়রা মাদকসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে পারবেন।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মাদক ব্যবসা, সেবন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্যই অভিযোগ বক্সটি স্থাপন করা হয়েছে। যারা তথ্য দেবেন, তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।’

ওসি আরও জানান, মাদক নির্মূলে মুরাদনগর থানার নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ বক্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে কুমিল্লা জেলার অন্যান্য থানার মতো মুরাদনগর থানাতেও মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক র‌্যালি, সমাবেশ ও বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পেশাজীবী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

মুরাদনগর থানার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে মাদকসংক্রান্ত তথ্য জানাতে পারলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়লে মাদক নির্মূলের উদ্যোগও শক্তিশালী হবে।

প্রিন্ট করুন