

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানোর অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বাঙ্গরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম কে আই জাবেদ।
অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে গত ১৬ আগস্ট বাঙ্গরা বাজার থানায় এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে এম কে আই জাবেদের নাম ও প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও কুৎসা রটানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও স্বাভাবিক চলাফেরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

ভুয়া আইডি ও কিছু ভদ্র আইডি'র ট্যাগে অতিষ্ঠ! দয়াকরে আমার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা এবং ফেইক আইডি'র কেউ কোন পোস্টে আমাকে ট্যাগ করবেন না।
অভিযোগে তিনি চারটি ফেসবুক আইডির নাম উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো—‘বাঙ্গরা প্রতিদিন’, ‘রাতের গল্প’, ‘সত্যের আয়না’ এবং ‘শ্রীকাইল ইউনিয়নের রসের হাঁড়ি’।
জাবেদের অভিযোগ, এসব আইডির কোনোটি তার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। অথচ তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে এমনভাবে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ আগস্ট ‘শ্রীকাইল ইউনিয়নের রসের হাঁড়ি’ নামের একটি ফেসবুক আইডির পোস্টের কমেন্ট বক্সে তার ছবির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছবি ব্যবহার করে একটি মন্তব্য/পোস্ট করা হয়। ওই আইডির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন জাবেদ।
এ ধরনের ধারাবাহিক অপপ্রচারের কারণে শুধু সামাজিক মর্যাদাই নয়, তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে এসব ভুয়া আইডির আড়ালে কারা রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক জাবেদ।
বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে এম কে আই জাবেদ ভুয়া ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় উদঘাটন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও নাম-ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালানো শুধু ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি নয়; এর মাধ্যমে একজন মানুষের সামাজিক অবস্থান ও নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি এবং প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার বলেন, সাংবাদিকের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্ত করে ভুয়া আইডিগুলোর পেছনে কারা রয়েছে তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে উল্লেখিত ফেসবুক আইডি
– বাঙ্গরা প্রতিদিন
– রাতের গল্প
– সত্যের আয়না
– শ্রীকাইল ইউনিয়নের রসের হাঁড়ি