
মুরাদনগরে প্রশাসনের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন, সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ
কুমিল্লার মুরাদনগরে ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সরকারি ঘোষণা বা অনুমোদন ছাড়াই কয়েকদিনের ব্যবধানে নির্ধারিত ভাড়া ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়লেও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিয়টগঞ্জ থেকে মুরাদনগর রুটে আগে যেখানে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নেওয়া হতো প্রায় ৮০ টাকা, বর্তমানে অনেক সিএনজি চালক ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সড়কের দূরত্ব বা সরকারি নির্ধারিত ভাড়া পরিবর্তনের কোনো দৃশ্যমান ঘোষণা ছাড়াই এভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
তবে কয়েকজন সিএনজি চালকের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে তারা প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাদের ভাষ্য, আগে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকায় যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যেত, বর্তমানে সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক সময় তার চেয়ে কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি গাড়ির খরচ, সংসার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা আর্থিক চাপে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুরাদনগরের সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দারোরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মোস্তফা মুন্সী।
মোস্তফা মুন্সীর অভিযোগ, শুধু সিএনজি ভাড়া নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। সরকারি সম্পদ রক্ষা, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখল ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে তার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কে সিএনজির ভাড়া নির্ধারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো এবং উপজেলার অন্যান্য জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—শুধু সতর্ক করেই কি দায়িত্ব শেষ হবে, নাকি সিএনজি ভাড়া থেকে শুরু করে সরকারি রাস্তা দখল, কৃষিজমি নষ্ট ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় মুরাদনগর প্রশাসন দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে? এখন সেটিই দেখার বিষয়।

”উল্লেখ্য, কুমিল্লার মুরাদানগরে অবৈধ দখলে থাকা কোম্পানীগঞ্জ থেকে নবীনগর এবং সালপা থেকে পিপরিয়ার প্রধান খালসহ ১৭১টি সংযোগ খাল উদ্ধারে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় প্রশাসনকে এই ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে আদেশ প্রতিপালন সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা তোয়াক্কা করছে না মুরাদনগর স্থানীয় প্রশাসন। এতে করে হাইকোর্টের নির্দেশও কার্যত উপেক্ষিত ও পাত্তা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।”

