প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

জেল ভেঙে জঙ্গিসহ ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক—ইউনূসের শাসনে এই ভয়াবহ ব্যর্থতার দায় কার?

ইউনূসের আমলে জেলের নিরাপত্তা ভেঙে ৬৯০ বন্দি পলাতক—এই ব্যর্থতার দায় কার?
আজকের কথা ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক, যাদের মধ্যে দুই জঙ্গিও রয়েছে। মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

কারা মহাপরিদর্শকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যায়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও এখনও ৬৯০ জনের সন্ধান মেলেনি। শুধু নরসিংদী কারাগার থেকেই পালিয়েছিল ৮২৬ জন; তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন প্রশাসনের সক্ষমতা, কারাগারের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এত বিপুলসংখ্যক বন্দি কীভাবে কারাগার থেকে পালানোর সুযোগ পেল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা কোথায় ভেঙে পড়েছিল—তা নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

তবে ইউনূস সরকার বা তার প্রশাসন সরাসরি বন্দিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে—এমন কোনো প্রমাণ বা কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্যে উল্লেখ না থাকলেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ বলছে এটা তাদের চোখের সামনে ঘটেছে, এ ঘটনায় সরাসরি জঙ্গি নেতা ইউনুস ও তার প্রশাসন জড়িত। কারাগার ভাঙার পেছনে কোনো অবহেলা, নিরাপত্তাগত ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্র বা প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা জরুরি।

কারা মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার হলেও বন্দির সংখ্যা প্রায় ৯৮ হাজার। কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে কারাগারে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

কারাগারে মাদক ও আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানান তিনি। গত দুই বছরে এসব অভিযোগে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দুই জঙ্গিসহ শত শত বন্দি এখনও বাইরে রয়েছে। তারা কোথায় আছে, কীভাবে এতদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছে এবং তাদের পুনরায় গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জনগণের সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

প্রিন্ট করুন