প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

গ্যাস সংকটে বন্ধ ৯০০-এর বেশি টেক্সটাইল মিল, ধসে পড়ছে শিল্প উৎপাদন

তীব্র গ্যাস সংকটে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কমেছে উৎপাদন; বন্ধ হয়ে গেছে শত শত টেক্সটাইল মিল।
আজকের কথা ডেস্ক

গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে ৯০০ এর বেশি শিল্প কলকারখানা। সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দেওয়া হলেও শিল্পাঞ্চলগুলোতে সংকট কাটেনি। দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে দেশের ১ হাজার ৮০০টির বেশি টেক্সটাইল মিলের মধ্যে ৯০০-এরও বেশি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর তৈরি পোশাক, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিল্প মালিকদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও পরে আবার সংকট তীব্র হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীদের গ্যাস পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হওয়ায় শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, নারায়ণগঞ্জে একদিন গ্যাস সরবরাহে সামান্য উন্নতি হলেও পরদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

“সোমবার নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও, আজ পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।”

মোহাম্মদ হাতেম
সভাপতি, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের একটি স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর কারখানায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন ও গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক কারখানা মালিককে সম্পদ বিক্রি করে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিনহাজ হক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

“কয়েক দফা ডেডলাইন পার হয়ে যাওয়ার পর এখন তারা আমাদের আর কোনো আশার কথা শোনাতে পারছে না। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে আছি।”

মিনহাজ হক
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং লিমিটেড

এদিকে নরসিংদীর মাধবদীতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে তাঁত শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। তবে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ ধরনের কোনো বিক্ষোভের তথ্য অস্বীকার করেছেন।

নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় তাঁত শ্রমিকদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ অনেক শ্রমিক উৎপাদনভিত্তিক মজুরি পান।

“উৎপাদন বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। তাই নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে তাঁরা সড়কে নেমেছিলেন।”

আবদুল্লাহ আল মামুন
সাবেক সভাপতি, নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি

শিল্প মালিকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট শুধু কারখানার উৎপাদন কমাচ্ছে না, এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের আয়, শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আরও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ কমে যায়। এরপর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে।

প্রিন্ট করুন