

সারাদিনের ব্যস্ততা। চাকরির দায়িত্ব, সংসারের নানা কাজ, সন্তানদের নিয়ে ভাবনা—সবকিছু সামলে যখন চারপাশ ধীরে ধীরে নীরব হয়ে আসে, তখনই যেন অন্য এক জগৎ খুলে যায় কবি আলেয়া মান্নানের সামনে। দিনের ব্যস্ততায় যে কথাগুলো বলা হয়ে ওঠে না, যে ভাবনাগুলো মনের ভেতর জমে থাকে, রাতের নির্জনতায় সেগুলোই কখনো শব্দ হয়ে আসে, কখনো ছন্দ হয়ে কাগজে জায়গা করে নেয়।
এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কবিতা লিখে চলেছেন কবি আলেয়া মান্নান। জীবনের ব্যস্ততা তাকে কলম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। বরং দায়িত্বের ফাঁকে পাওয়া নির্জন সময়টুকুই হয়ে উঠেছে তার সৃষ্টিশীলতার অন্যতম আশ্রয়।
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার সন্তান মোসাঃ আলেয়া খাতুন ওরফে কবি আলেয়া মান্নান। জন্ম ১৯৮৮ সালে। তার পিতা মরহুম ইমাম হোসাইন এবং মাতা মোসা. জুবাইদা খাতুন। বর্তমানে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করছেন।

জীবনের ব্যস্ততা ও দুঃখ-কষ্টের মাঝেও কবিতাই আমাকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আমার অপ্রকাশিত লেখাগুলো একদিন পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছাবে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
ছোটবেলা থেকেই নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা আলেয়া মান্নানের জীবনে পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছে সংসার, সন্তান, চাকরি ও নানা দায়িত্ব। এসব দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের ভেতরের সৃষ্টিশীল মানুষটিকেও তিনি ধরে রেখেছেন। তার কাছে লেখালেখি শুধু অবসর কাটানোর বিষয় নয়; বরং ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশের একটি নিজস্ব মাধ্যম।
২০০০ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন আলেয়া মান্নান। এরপর জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন দায়িত্ব ও নতুন অধ্যায়। সংসারে আসে এক মেয়ে ও দুই ছেলে।
তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে বর্তমানে মেডিকেলে পড়াশোনা করছেন। দুই ছেলে মাদ্রাসায় পড়ছেন। সন্তানদের পড়াশোনা, তাদের ভবিষ্যৎ এবং সংসারের নানা দায়িত্বকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
একজন মায়ের কাছে সন্তানের ভবিষ্যৎ যেমন সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গাগুলোর একটি, তেমনি নিজের স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীলতাকে ধরে রাখাও সহজ নয়। কিন্তু আলেয়া মান্নান সেই দুটো জগতকে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
চাকরির দায়িত্ব শেষ করে সংসারের কাজে সময় দিতে হয়। সন্তানদের নিয়েও থাকতে হয় ব্যস্ত। তারপর যখন দিনের সব কাজ অনেকটা শেষ হয়ে আসে, তখনই শুরু হয় তার ভাবনার সময়।
আর সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় কবিতা।
আলেয়া মান্নানের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হলো স্বামী আবদুল মান্নানের মৃত্যু।
কবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মে ২০২২ ইংরেজি তারিখে তার স্বামী আবদুল মান্নান পরলোকগমন করেন।
স্বামীকে হারানোর পর সন্তান, সংসার ও নিজের কর্মজীবনের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে তাকে। জীবনের এই পরিবর্তন সহজ ছিল না। তবে দায়িত্বের কাছে থেমে যাওয়ার সুযোগও ছিল না।
তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ, সংসারের প্রয়োজন এবং নিজের পেশাগত জীবন—সবকিছুকে সামনে রেখে তাকে পথ চলতে হয়েছে।
তারপরও তার ভেতরের কবিসত্তা হারিয়ে যায়নি। বরং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাকে আরও বেশি ভাবতে শিখিয়েছে, আরও বেশি অনুভব করতে শিখিয়েছে।
কবি আলেয়া মান্নান নিজের লেখালেখির অভ্যাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন,
“সারাবেলা কাটে চাকরি ডিউটি, ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার। আর রাত কাটে চিন্তাভাবনা, আর তা থেকেই লেখালেখির অভ্যাস।”
তার এই কথার মধ্যেই যেন তার সাহিত্যচর্চার পুরো গল্পটি লুকিয়ে আছে।
দিনের বড় একটা সময় চলে যায় দায়িত্ব পালনে। চাকরি, সংসার ও সন্তান—সবকিছুর পর রাতের নীরবতা তাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নেয়। তখন দিনের নানা ঘটনা, মানুষের কথা, পারিপার্শ্বিকতা ও নিজের অনুভূতিগুলো নতুন করে ভাবেন তিনি।
কখনো সেই ভাবনা কয়েকটি শব্দ হয়ে আসে। আবার কখনো শব্দগুলো ধীরে ধীরে পঙ্ক্তিতে রূপ নেয়। একসময় সেই পঙ্ক্তিগুলোই হয়ে ওঠে একটি কবিতা।
কবি আলেয়া মান্নান জানান, এ পর্যন্ত তিনি শতাধিক কবিতা লিখেছেন। তবে তার লেখা সব কবিতা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
অপ্রকাশিত কবিতাগুলো নিয়ে তার রয়েছে স্বপ্ন। তিনি চান, তার দীর্ঘদিনের সৃষ্টিগুলো একে একে পাঠকের সামনে আসুক। নিজের ভাবনা ও অনুভূতিগুলো পাঠকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান তিনি।
ইতোমধ্যে তার লেখা ১৬টি কবিতা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান কবি।
তার প্রকাশিত কবিতার তালিকায় রয়েছে—সূর্যাক্ষর ম্যাগাজিন, দৈনিক ভোরের খবর, দৈনিক দেশকাল, দৈনিক যায়যায় কাল, দৈনিক সকালের কাগজ, দৈনিক স্বাধীন ভোর, দৈনিক মুক্ত প্রভাত, দৈনিক রাঙা প্রভাত, দৈনিক জনতার কণ্ঠ, দৈনিক বাংলার মুকুল, দৈনিক স্বদেশ চিত্র, দৈনিক সকালের সংবাদ, দৈনিক সকালের আলো, দৈনিক জনতার খবর, ৭১ সংবাদ পত্রিকা এবং দৈনিক পূণ্যভূমি পত্রিকা।
এসব প্রকাশনা তার সাহিত্যচর্চার পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে ১৬টি প্রকাশিত কবিতার বাইরেও তার কাছে রয়েছে আরও অনেক লেখা।
শতাধিক কবিতা লেখা হলেও সবগুলো পাঠকের সামনে তুলে ধরতে না পারার বিষয়টি তার কাছে এক ধরনের অপূর্ণতা। তাই এখন তার অন্যতম প্রত্যাশা—অপ্রকাশিত কবিতাগুলোও যেন ধীরে ধীরে পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
সম্প্রতি কবি আলেয়া মান্নান তার একটি অপ্রকাশিত কবিতা ‘তুমি চেয়ো’ প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছেন।
কবিতাটিতে চাওয়া-পাওয়া, প্রকৃতি, অনুভূতি এবং সম্পর্কের কাছে থাকার আকাঙ্ক্ষাকে ভিন্ন এক আবেগে তুলে ধরা হয়েছে।
কবিতার শুরুতেই তিনি লিখেছেন—
“তুমি কিছু চাইতে পারো, না বলবো না।
তবে ভুল করেও যেন, দূরত্ব চেয়ো না।”
দুটি পঙ্ক্তির মধ্যেই কবিতার মূল আবেগটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রিয় মানুষ অনেক কিছু চাইতে পারে—ফুল, আকাশ, নদী, পাহাড়, বৃষ্টি কিংবা পূর্ণিমার রাত। কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে বড় ভয় হলো দূরত্ব।
কবিতায় প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে ব্যবহার করে কবি এক ধরনের আবেগঘন কথোপকথন তৈরি করেছেন।
ফুলের সৌরভ, আকাশের বিশালতা, নদীর স্রোত, পাহাড় ও ঝরনা, বৃষ্টির শব্দ, শীতের সকাল, শিশির, পূর্ণিমার জোছনা—সবকিছুই এসেছে কবিতায়।
তবে প্রতিটি চাওয়ার সঙ্গে রয়েছে একটি সতর্কতা।
ফুল চাওয়া যাবে, কিন্তু ভুল বোঝা যাবে না। আকাশ চাওয়া যাবে, কিন্তু উড়ে যাওয়া যাবে না। নদী চাওয়া যাবে, কিন্তু স্রোতে ভেসে যাওয়া যাবে না। বৃষ্টি চাওয়া যাবে, কিন্তু নিরুদ্দেশ হওয়া যাবে না।
অর্থাৎ সৌন্দর্যকে গ্রহণ করা যাবে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া যাবে না—এমন একটি অনুভূতি কবিতাটির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত আবারও ফিরে আসে সেই আকুতি—
“তুমি কিছু চাইতে পারো, না বলবো না।
তবে ভুল করেও যেন, দূরত্ব চেয়ো না।”
শুরু ও শেষের একই পঙ্ক্তি কবিতাটিকে একটি পূর্ণ বৃত্তে এনে দাঁড় করিয়েছে।
আলেয়া মান্নানের সাহিত্যচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি লেখালেখিকে জীবনের দায়িত্বের বাইরে কোনো আলাদা জগত হিসেবে দেখেন না।
বরং চাকরি, সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যেই তিনি লেখার উপাদান খুঁজে নেন।
দিনের ব্যস্ততা তাকে সময়ের সংকটে রাখে। কিন্তু চিন্তার জগৎকে ব্যস্ত রাখা যায় না। দিনের শেষে যখন মানুষের কোলাহল কিছুটা কমে যায়, তখনই মনের ভেতরের কথাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সেই কথাগুলোই তার কবিতার ভাষা পায়।
এ কারণেই হয়তো তার কাছে রাত গুরুত্বপূর্ণ। রাতের নীরবতা তাকে ভাবার সুযোগ দেয়। আর ভাবনা থেকেই আসে লেখা।
আলেয়া মান্নানের জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে তার সন্তানরা।
বড় মেয়ে মেডিকেলে পড়াশোনা করছেন। দুই ছেলে মাদ্রাসায় পড়ছেন। সন্তানদের নিয়ে তার স্বপ্ন যেমন রয়েছে, তেমনি নিজের লেখালেখি নিয়েও রয়েছে প্রত্যাশা।
সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি চান তার সন্তানরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। একই সঙ্গে তার নিজের লেখাগুলোও যেন পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
এই দুই আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
একদিকে সন্তানদের ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে নিজের সৃষ্টিশীলতার ভবিষ্যৎ—দুটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
একজন লেখকের কাছে অপ্রকাশিত লেখা কখনো কখনো অনেকটা জমিয়ে রাখা স্মৃতির মতো। প্রতিটি কবিতার পেছনে থাকতে পারে একটি ভাবনা, একটি সময় কিংবা একটি অনুভূতি।
আলেয়া মান্নানের ক্ষেত্রেও শতাধিক কবিতা শুধু একটি সংখ্যা নয়। এগুলো তার দীর্ঘদিনের লেখালেখির সাক্ষ্য।
এর মধ্যে কিছু কবিতা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে, আবার অনেক কবিতা এখনো তার নিজের কাছে রয়ে গেছে।
তিনি চান সেই অপ্রকাশিত লেখাগুলোও একদিন পাঠকের হাতে পৌঁছাক।
তার এই প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একজন সৃষ্টিশীল মানুষের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা—নিজের লেখা মানুষ পড়ুক, অনুভব করুক এবং প্রতিক্রিয়া জানাক।
সাহিত্য অঙ্গনে পরিচিতি তৈরি করতে সময় লাগে। নিয়মিত লেখা, প্রকাশনা, পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের চর্চার মধ্য দিয়ে একজন কবির নিজস্ব অবস্থান তৈরি হয়।
আলেয়া মান্নানের সাহিত্যযাত্রাও সেই চলমান পথের একটি অংশ।
ইতোমধ্যে ১৬টি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে। তার হাতে রয়েছে আরও শতাধিক কবিতা। সামনে রয়েছে সেগুলো প্রকাশের প্রত্যাশা।
এ পথচলায় তার সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত তার নিজের আগ্রহ ও লেখার প্রতি ভালোবাসা।
দিনের ব্যস্ততার পরও তিনি লিখছেন। সংসারের দায়িত্বের মধ্যেও লিখছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার পাশাপাশি নিজের সৃষ্টির ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছেন।
আর তাই তার সাহিত্যচর্চা এখনো থেমে নেই।
আলেয়া মান্নানের এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাগুলোর একটি হলো—তার অপ্রকাশিত কবিতাগুলো যেন পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
একজন কবির কাছে পাঠকই শেষ পর্যন্ত তার সৃষ্টির সবচেয়ে বড় ঠিকানা। কাগজে লেখা একটি কবিতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেটি কোনো পাঠকের চোখে পড়ে, মনে দাগ কাটে কিংবা তাকে কিছুক্ষণ ভাবায়।
আলেয়া মান্নানের কবিতার ক্ষেত্রেও সেই প্রত্যাশাই রয়েছে।
তিনি লিখে যেতে চান। নিজের অনুভূতি ও ভাবনাগুলোকে শব্দে ধরে রাখতে চান। আর সুযোগ পেলে সেই লেখাগুলো প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে চান।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী—জীবনের পথচলায় অনেক অধ্যায় পেরিয়ে আজও তিনি কলম হাতে রয়েছেন।
দিনের শেষে যখন চারপাশ নীরব হয়ে আসে, তখন তার ভেতরের শব্দগুলো যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই শব্দ থেকে জন্ম নেয় কবিতা।
হয়তো এভাবেই আরও অনেক রাত, আরও অনেক ভাবনা এবং আরও অনেক কবিতা অপেক্ষা করছে তার কলমের জন্য।
তার অপ্রকাশিত শতাধিক কবিতার ভাণ্ডার একদিন পাঠকের সামনে আসবে—এটাই এখন তার প্রত্যাশা।
আর সেই প্রত্যাশার মধ্যেই এগিয়ে চলেছেন কবি আলেয়া মান্নান—সংসার, সন্তান ও কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও যিনি রাতের নীরবতায় নিজের কবিতার জগৎ নির্মাণ করে চলেছেন।
নাম: আলেয়া মান্নান
জন্ম: ১৯৮৮ সাল
জন্মস্থান: নেত্রকোনা জেলা
উপজেলা: কলমাকান্দা
পিতা: মরহুম ইমাম হোসাইন
মাতা: মোসা. জুবাইদা খাতুন
বর্তমান বসবাস: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
বিবাহ: ২০০০ সাল
স্বামী: মরহুম আবদুল মান্নান
স্বামীর মৃত্যুর তারিখ: ১৮ মে ২০২২ ইং
সন্তান: এক মেয়ে ও দুই ছেলে
সাহিত্যচর্চা: কবিতা
প্রকাশিত কবিতা: ১৬টি
মোট লেখা কবিতা: শতাধিক (কবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী)
বিশেষ পরিচয়: কবি, কর্মজীবী নারী ও মা।
— সাহিত্য ডেস্ক, দৈনিক আজকের কথা