প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় ভারতীয় মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৯

কুমিল্লায় ভারতীয় মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৯
খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক :

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ছয়টি অবৈধ ভারতীয় মোটরসাইকেলসহ একটি চোরাচালান চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভারত থেকে চোরাইপথে আনা ছয়টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ময়নামতি এলাকার কাটা জঙ্গল বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে শনিবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার কচুয়ারপাড় গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে কামিম আহম্মদ (২৮), সিলেট কোতোয়ালি থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহী ঈদগা এলাকার মনির মিয়ার ছেলে করিম (৩০), সুনামগঞ্জ সদর থানার পুরাতন গদিগাঁও গ্রামের শাহ আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২), সিলেটের জালালাবাদ থানার নলকট গ্রামের তরিক মিয়ার ছেলে পাবেল আহম্মদ (২৬), একই থানার নীলগাঁও গ্রামের খালেকের ছেলে হোসাইন (২৩), সুনামগঞ্জের দিরাই থানার দিরাই চান্দপুর গ্রামের হেমেন্দ্র চন্দ্রদাসের ছেলে রিপন চন্দ্র দাস (২৯), সিলেট কোতোয়ালি থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চারাদিঘিরপাড় এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে রাজু আহম্মদ (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার তাতিকোনা গ্রামের সাহেদ আলীর ছেলে আবিদুল ইসলাম (২৮) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার সালুটিঘর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে কাওছার হোসেন (২৬)।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ্ জানান, ময়নামতির কাটা জঙ্গল এলাকায় সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কে নয়জন ব্যক্তি ছয়টি মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের থামার সংকেত দেওয়া হয়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে নয়জনকেই আটক করা হয়। পরে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোর বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তবে মোটরসাইকেলগুলোর কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশকে জানান, সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে চোরাইপথে এবং সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব মোটরসাইকেল বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।

ডিবি পুলিশের ওসি শামছুল আলম শাহ্ বলেন, ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা মোটরসাইকেলগুলো কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

দৈনিক আজকের কথা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে চোরাইপথে ও সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পরে এসব মোটরসাইকেল কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
— শামছুল আলম শাহ্
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা মোটরসাইকেলগুলোর বৈধ মালিকানা ও আমদানি-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রিন্ট করুন