
মুরাদনগরে পুটিয়াজুরী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্বোধন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল এলাকায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘পুটিয়াজুরী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা’র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৩টায় পুটিয়াজুরী এলাকার মাদ্রাসা হলরুমে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই মাদ্রাসাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যায়। বিশেষ করে এলাকার শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় সৎ সাহস রাখতে হবে।
তিনি বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, সততা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার মানসিকতা তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে তারা সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কায়েস মীর আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবার। অন্যায় দেখেও নীরব থাকা উচিত নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার মতো মানসিকতা প্রত্যেকের মধ্যে তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৭ নম্বর জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর-এর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা ছিল মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী-এর।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন সোনাকান্দা কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হযরত মাওলানা মো. সাইদুল ইসলাম আলামিন মাহমুদী। তিনি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা এবং শিশু-কিশোরদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরুতেই তার মধ্যে সঠিক মূল্যবোধ তৈরি করা জরুরি। কোরআন শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, পরোপকার ও ন্যায়বোধের শিক্ষা লাভ করতে পারে। তাই আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, এলাকার শিশু-কিশোরদের প্রাথমিক কোরআন শিক্ষা, নূরানী শিক্ষা ও হিফজুল কোরআনের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষার একটি উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চরিত্রবান ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে গোপালনগর মাদ্রাসা জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা জয়নাল আবেদীন-এর পরিচালনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মাদ্রাসার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সফলতা কামনা করা হয়।
এ সময় মাদ্রাসার ছাত্রদের কোরআন শিক্ষার সবক প্রদান করা হয়। নতুন শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষার আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যেই এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মাদ্রাসাটিকে আরও উন্নত ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু কোরআন পড়তে শেখানো নয়, কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্যও প্রস্তুত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। আমরা চাই, এখান থেকে এমন শিক্ষার্থী বের হয়ে আসুক, যারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কল্যাণকর মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় আলেম-ওলামা, অভিভাবক এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় একটি নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ফলে শিশু-কিশোরদের কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি অভিভাবকরাও নিজেদের সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে নতুন একটি সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘পুটিয়াজুরী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ ভবিষ্যতে শুধু একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাদ্রাসাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে নতুন আশাবাদ। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত পাঠদান ও দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

