প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

হাজার জনের ভিড়ে যাকে আলাদা করে চেনা যায়—কায়কোবাদ

হাজার জনের ভিড়ে যাকে আলাদা করে চেনা যায়—কায়কোবাদ
আজকের কথা ডেস্ক

মুরাদনগরের ‘দাদা’ এখন রাষ্ট্রীয় মঞ্চে: বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী বঙ্গভবনের দরবার হল। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিক, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি দিয়ে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর-বাঙ্গরা) আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

মুরাদনগর ও বাঙ্গরা অঞ্চলের মানুষের কাছে যিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও দীর্ঘদিন ধরে আপনজন হিসেবে পরিচিত, সেই কায়কোবাদকে স্থানীয়রা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

হাজার মানুষের ভিড়ে যাকে আলাদা করে চেনা যায়—তিনি আর কেউ নন, আমাদের ‘দাদা’।

দৈনিক আজকের কথা
হাজার জনের মাঝে যাকে আলাদা করে চেনা যায়, তিনি আমাদের দাদা—মুরাদনগর-বাঙ্গরার মানুষের প্রিয় নেতা ও ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি আমাদের গর্বিত করেছে।
— জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল
লেখক ও সাংবাদিক, ঐতিহ্য কুমিল্লা

রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে কায়কোবাদ

বঙ্গভবনের ঐতিহ্যবাহী দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিরা তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এমন অনুষ্ঠানে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর উপস্থিতি তাঁর রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে মুরাদনগর-বাঙ্গরার মানুষের কাছে এটি নিজ এলাকার একজন রাজনৈতিক নেতার জাতীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান উপস্থিতিরও একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত।

একটি ছবিই ছড়িয়ে দিল উৎসাহ

বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব ড. সফিকুল ইসলাম। পরে সেই আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ছবিতে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথির সঙ্গে দেখা যায়। ছবিটি প্রকাশের পর মুরাদনগর ও বাঙ্গরা অঞ্চলের তাঁর সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

স্থানীয়দের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাঁদের কাছে এটি শুধু একটি ছবি নয়—বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন নেতাকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক পরিসরে দেখার আবেগেরও বহিঃপ্রকাশ।

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে জাতীয় পরিসরে

কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দীর্ঘদিন ধরে মুরাদনগরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে।

১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাঁর সংসদীয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশের কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০০২ সালে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার পর বর্তমানে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন তথ্য তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে সামনে আসে।

কেন ‘দাদা’?

রাজনীতিতে নেতাদের পরিচিতি সাধারণত পদ-পদবি, দলীয় অবস্থান কিংবা নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে যুক্ত থাকে। কিন্তু কায়কোবাদের ক্ষেত্রে ‘দাদা’ সম্বোধনটি অনেকটা আলাদা আবেগ বহন করে।

মুরাদনগরের বিভিন্ন বয়সী মানুষের মুখে তাঁর নামের সঙ্গে ‘দাদা’ শব্দটির ব্যবহার দীর্ঘদিনের। স্থানীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই সম্বোধন কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো পরিচয় নয়; বরং তাঁর সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন।

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যেও তাঁকে ঘিরে এই আবেগের কথা স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে আসে। ফলে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠানে কায়কোবাদকে দেখা গেলে সেটি স্বাভাবিকভাবেই মুরাদনগরের মানুষের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।

বঙ্গভবনের সেই মুহূর্ত, মুরাদনগরের আবেগ

একদিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা, অন্যদিকে মুরাদনগরের মানুষের আবেগ—বঙ্গভবনের একটি আলোকচিত্র যেন এই দুই বাস্তবতাকে একই ফ্রেমে এনে দিয়েছে।

কায়কোবাদ সমর্থকদের কাছে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে গর্বের। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জায়গা থেকে দেখলে, একজন তৃণমূলের নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিসরে দৃশ্যমান হওয়াটিও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

মুরাদনগর-বাঙ্গরার মানুষের প্রত্যাশা এখন আরও বড়—জাতীয় রাজনীতির এই অবস্থান যেন এলাকার মানুষের উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ, ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বঙ্গভবনের দরবার হলের সেই ছবি তাই শুধু একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের স্মৃতি নয়; মুরাদনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি হয়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের আবেগ, প্রত্যাশা ও গর্বের একটি প্রতীকী মুহূর্ত।

প্রিন্ট করুন