

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফার্মেসি মালিকের কাছে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ফার্মেসিতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং আইনের আশ্রয় নিলে কিংবা দোকান খোলার চেষ্টা করলে মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের একদিন পরই তারা জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) দেবীদ্বার থানায় ফার্মেসি মালিক মোছা. শামীমা আক্তার আঁখির দায়ের করা মামলার পর পুলিশ মো. শরীফ (৩৫) ও রেজাউল করিম সুমনকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। ওইদিন দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন সোমবার (২৪ আগস্ট) তারা জামিনে মুক্ত হন বলে নিশ্চিত করেছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
অভিযোগ অনুযায়ী, দেবীদ্বার পৌর এলাকার সমবায় টাওয়ারে ‘দি দেবীদ্বার স্কয়ার হাসপাতাল’-এর নিচে ‘দেবীদ্বার লাজফার্মা’ নামের ফার্মেসিতে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভাড়া নিয়ে ওই ফার্মেসি চালু করেন শামীমা আক্তার আঁখি। সম্প্রতি শরীফ ও রেজাউল করিম সুমন ফার্মেসির কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
বাদীর অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট তারা পুনরায় ফার্মেসিতে গিয়ে কর্মচারীদের মারধর করে বের করে দেন এবং দোকান ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। পরে ফার্মেসিতে তালা লাগিয়ে চলে যান। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরে তালা খুলে ব্যবসা চালু করেন তিনি।
এরপর গত ২১ আগস্ট সকাল পৌনে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা আবার ফার্মেসিতে এসে ৪ লাখ টাকা না দিলে ব্যবসা করতে পারবেন না বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এ সময় কর্মচারীদের মারধর করে ফের দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে ফার্মেসি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ফার্মেসি মালিক শামীমা আক্তার আঁখি বলেন, “দাবিকৃত টাকা না দিলে দোকান চালাতে দেওয়া হবে না বলে তারা হুমকি দিয়েছে। আইনের আশ্রয় নেওয়া হলে আমার ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার ভয় দেখানো হয়েছে। তাদের জামিনের খবর পাওয়ার পর আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, অভিযুক্তরা ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহ জামান মুন্সী ও বর্তমান সভাপতি শুভ হাজারী বলেন, অভিযুক্তরা ছাত্রদলের পরিচয় দিলেও সংগঠনের বর্তমান বা সাবেক কোনো কমিটিতে তাদের পদ-পদবি ছিল না।

ফার্মেসি মালিকের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরদিন তারা জামিন পেয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ফার্মেসি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ফার্মেসি মালিকের নিরাপত্তা ও অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।