প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ইউপি ভোটের ঘণ্টা বাজছে: ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল, নভেম্বরে শুরু হতে পারে নির্বাচন

ইউপি ভোটের ঘণ্টা বাজছে: ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল, নভেম্বরে শুরু হতে পারে নির্বাচন
আজকের কথা ডেস্ক :

দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিহীন থাকার পর দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ফের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন।

ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেও দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে। নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই সময়কে নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
— আব্দুর রহমানেল মাছউদ
নির্বাচন কমিশনার।

গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের পাঠানো ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সর্বশেষ নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। এর পর থেকেই নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া আরও গতি পেয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে। নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই সময়কে নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে রমজান থাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজন করা হবে না। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল এবং নভেম্বরে ভোট শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন।

তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি পৌরসভা নির্বাচনও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আগামী বছরেই স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

নভেম্বরকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রয়োজনীয় বেশ কিছু সামগ্রীও সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছোট হোসিয়ান ও গানি ব্যাগ, বড় হোসিয়ান ব্যাগ, মার্কিং সিল, অফিসিয়াল সিলসহ বিপুল পরিমাণ নির্বাচনী সামগ্রী রয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন করে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী কেনার প্রয়োজন হবে না।

জটিলতা থাকা ইউপিতে ভোট নয়

ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারণ কিংবা মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে—এমন ইউনিয়নগুলোকে নির্বাচনের আওতার বাইরে রাখার কথা জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যেসব ইউনিয়নে মামলা রয়েছে বা সীমানা নিয়ে জটিলতা আছে, সেগুলোতে আপাতত নির্বাচন করা হবে না। এ ধরনের জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

ইউপি নির্বাচন কত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অতীতে যেভাবে ধাপে ধাপে নির্বাচন হয়েছে, এবারও মোটামুটি সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হতে পারে।

সুষ্ঠু ভোটে আইনশৃঙ্খলায় বিশেষ নজর

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে পুলিশ প্রধানের কাছে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন চেয়েছেন।

পুলিশ প্রধান আলী হোসেন ফকির জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

ইসি বলছে, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন।

কারা প্রার্থী হতে পারবেন না

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে কিছু বিধিনিষেধও চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি এবং খেলাপি ঋণের জামিনদাররা প্রার্থী হতে পারবেন না। অন্যরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

কমিশন সভায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে। নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে।

দুই বছর ধরে জনপ্রতিনিধিহীন স্থানীয় সরকার

দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদেরও অপসারণ করা হয়। একই সময়ে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদও কার্যত জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে।

ফলে প্রায় দুই বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় একটি অংশ। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক তৎপরতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা এবং নভেম্বরে ভোট শুরু—এখনও নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা; চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার পরই ভোটের তারিখ ও ধাপগুলো নিশ্চিত হবে।

প্রিন্ট করুন