প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

চাঁদপুরে ব্যবসায়ীসহ একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ

চাঁদপুরে ব্যবসায়ীসহ একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ
আজকের কথা ডেস্ক :

চাঁদপুর শহরের ‘এস কে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

নিখোঁজ অন্য তিনজন হলেন—পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রুপম দাস।

স্বজনদের বরাত দিয়ে উপমা দে জানান, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি আর্থিক সংকটে ও ঋণের চাপে ছিলেন। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। এর পর থেকেই স্ত্রী-সন্তানসহ পিন্টুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

দৈনিক আজকের কথা
পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
— চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে পারছিলেন না তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তার আর্থিক সংকট আরও বেড়ে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দফা দোকানের স্থান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। সেখানে বন্ধক রাখা স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান দাবি করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ওই ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু তাকে পরদিন আসতে বলেন। এর পরই পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান রাসেল।

দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন পিন্টু।

জানা গেছে, পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুন্সিগঞ্জের মুদাফফরগঞ্জ এলাকায় তার আত্মীয়স্বজন রয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা সত্যিই নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি কোনো কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন—এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস স্বপরিবারে নিজে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজের বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট করুন