
‘কেন মার খেলাম?’—যানজট নিরসনে গিয়ে হামলার শিকার তিন সাংবাদিক
“কেন মার খেলাম?”—এমন প্রশ্ন তুলে কুমিল্লায় হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক তানভীর দীপু। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তানভীর দীপুর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি যমুনা টেলিভিশনের কুমিল্লা ব্যুরো চিফ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন ও স্টার নিউজের ব্যুরো রিপোর্টার আবদুল্লাহ আল মারুফকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের দিকে যাচ্ছিলেন।
সদর দক্ষিণে পল্লী বিদ্যুতের সামনে থেকে উত্তর রামপুরের সরু সড়ক দিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় তারা যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে আটকা পড়েন। গাড়ি থেকে নেমে তারা দেখতে পান, সড়কের ওপর ভারী লোহার অ্যাঙ্গেলের তৈরি একটি ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এতে একটি হায়েস মাইক্রোবাস আটকে ছিল এবং ব্যারিকেডের রডে আটকে গাড়িটির পেছনের অংশ ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখতে পান তারা।
তানভীর দীপু জানান, তিনি আরও একজনকে সঙ্গে নিয়ে ভারী লোহার অ্যাঙ্গেলটি তুলে যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের বলেন, তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকা লোহার প্রতিবন্ধকতাটি সাময়িকভাবে সরিয়ে দিলে দীর্ঘ যানজট কমে আসত।

আমরা মানুষের পক্ষে কথা বলেছি, মানুষের উপকারে কথা বলেছি। আমাদের ওপর হামলার পরও আইন নিজের হাতে তুলে নিইনি। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে জানান, গাড়ি আটকানোর জন্যই ওই প্রতিবন্ধকতা রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে সেখানে থাকা এক যুবক উত্তেজিত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তানভীর।
তার ভাষ্য, তাকে রক্ষা করতে স্টার নিউজের সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মারুফ এগিয়ে এলে ওই যুবক তাকেও গালিগালাজ করেন। পরে ওই যুবক লোহার রড নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তানভীর।
তানভীর দীপু আরও জানান, পরিস্থিতি এড়িয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যেই অভিযুক্ত যুবক পেছন থেকে এসে আবদুল্লাহ আল মারুফকে ঘুষি মেরে ফেলে দেন এবং মারধর শুরু করেন। পরে গাড়ি থেকে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন নেমে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কোনোভাবে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা সরে গেলেও পুলিশ না আসা পর্যন্ত তারা ওই এলাকা ত্যাগ করেননি বলে জানান তানভীর দীপু।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তানভীর লিখেছেন, “মানুষ কেন এতটা অসহনীয়?” তিনি বলেন, তারা চাইলে ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের সঙ্গে পাল্টা সংঘাতে জড়াতে পারতেন এবং তাদের সম্মানহানি করতে পারতেন। কিন্তু তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেননি। বরং আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বন্ধুরা তাদের খোঁজ নেন এবং ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বলেও জানান তানভীর দীপু।
এর আগে এ ঘটনায় কুমিল্লা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

