প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

জামালপুরে এক সপ্তাহে ৫ মরদেহ উদ্ধার, নারী-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

জামালপুরে এক সপ্তাহে ৫ মরদেহ উদ্ধার, নারী-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
আজকের কথা ডেস্ক :

জামালপুর শহর ও আশপাশের উপজেলায় মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই গৃহবধূ, এক কলেজছাত্রী, এক কিশোরী ও এক ব্যবসায়ী। এসব মৃত্যুর কয়েকটির কারণ এখনও নিশ্চিত না হওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনারই গুরুত্ব তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দৈনিক আজকের কথা
অল্প কয়েক দিনের মধ্যে এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
— আবদুল কাদের
ব্যবসায়ী, বকুলতলা, জামালপুর।

গত ২৩ আগস্ট জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ইশরাত জাহান (৩০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটের ভেতরে তাঁর দুই শিশুসন্তান আটকা পড়ে জানালা দিয়ে পানি চেয়ে কান্নাকাটি করলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে শিশুদের উদ্ধারের পাশাপাশি একটি কক্ষ থেকে ইশরাতের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পিবিআই তাঁর স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে।

এর চার দিন পর ২৭ আগস্ট মাদারগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ দোকান থেকে সামিউল ইসলাম ওরফে ফকির আলী (৪৫) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দোকানেই রাতযাপন করতেন। দিনভর দোকান বন্ধ থাকায় সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁর মরদেহ দেখতে পান।

পরদিন ২৮ আগস্ট সকালে একই উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের একটি কৃষিজমির পাশে সেচপাম্পের ঘর থেকে রূপসী আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের রাত থেকে নিখোঁজ ছিল সে।

একই দিন রাতে জামালপুর শহরের দক্ষিণ কাচারীপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমা (২৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েনে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

সর্বশেষ ২৯ আগস্ট নান্দিনা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাত্র এক সপ্তাহে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। কয়েকটি ঘটনা শহরের আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায় ঘটায় বাসাবাড়ির নিরাপত্তা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংরক্ষণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
একটির পর একটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আতঙ্ক দূর করতে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তথ্য জানানো প্রয়োজন।
— নাজমুল হক
বাসিন্দা, দক্ষিণ কাচারীপাড়া, জামালপুর।

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, প্রতিটি ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জুমার নামাজের সময় বিভিন্ন মসজিদে জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি, হত্যা ও আত্মহত্যার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক বলেন, মাদকাসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। মানসিক চাপ বা যেকোনো সমস্যায় তরুণদের স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবেশীদের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি।

প্রিন্ট করুন