প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

তিন মাস পর খুলছে সুন্দরবন, ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন।
ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট:

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন। দীর্ঘ বিরতিতে মানুষের প্রবেশ ও কর্মকাণ্ড কম থাকায় বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মাছের প্রজনন ও বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধির জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ ও বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ সময়ে পর্যটক, জেলে, বাওয়ালি ও অন্যান্য বনজীবীদের প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়ায় বনের পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে। হরিণের বিচরণ, কুমিরের অবস্থানসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতিতে বনের গহিনাঞ্চল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি মানুষের শব্দ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড কম থাকায় বনজ উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।

নিষেধাজ্ঞাকালে বন বিভাগের অভিযানও জোরদার ছিল। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৬৩টি অভিযান চালিয়ে ৩৯টি মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৭ জনকে আটক, ১২টি ট্রলার, ৫০টি নৌকা, ৫৫টি জাল এবং ছয় হাজারের বেশি হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। বিষ দিয়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে বিষ ও বিষযুক্ত মাছ উদ্ধার করা হয়।

দৈনিক আজকের কথা
সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মানবিক চাপ কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বনের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
— শেখ ফরিদুল ইসলাম
প্রতিমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন খুলে দেওয়ার পর পর্যটক ও বনজীবীদের চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। বনজীবীদের পাস-পারমিট এবং নৌযান চলাচলের বিষয়েও নজরদারি থাকবে।

সুন্দরবনে রয়েছে বিপুলসংখ্যক জলজ ও স্থলজ প্রাণীর আবাসস্থল। তাই নিষেধাজ্ঞা শেষে মানুষের প্রবেশাধিকার স্বাভাবিক হলেও বনের পরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

দৈনিক আজকের কথা
নিষেধাজ্ঞার সময়ে বনের ভেতরে মানুষের চাপ কম থাকায় জীববৈচিত্র্য স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ দমনে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
— মো. রেজাউল করিম চৌধুরী
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা নয়, সারা বছর প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, শিকার ও বিষ প্রয়োগ বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য আরও সুরক্ষিত থাকবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন খুলে যাওয়ার পর পর্যটক ও বনজীবীদের দায়িত্বশীল আচরণই হবে এই প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত।

প্রিন্ট করুন