প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবীদ্বারের চাঞ্চল্যকর ফরিদা হত্যা: মুন্সীগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত আসামি আমির আটক

গ্রেপ্তার আমির হোসেনের পুলিশ হেফাজতে ছবি ও নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের ফাইল ছবি।
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক :

কুমিল্লার দেবীদ্বারে আলোচিত ও নৃশংস ফরিদা ইয়াসমিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আমির হোসেন (৩৮)কে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পঞ্চসার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আমির হোসেন দেবীদ্বার পৌরসভার চাপানগর এলাকার জহিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি এ মামলার আগে গ্রেপ্তার হওয়া লাইলী আক্তারের দেবর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর বড়ুয়া জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমির হোসেনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মুন্সীগঞ্জের পঞ্চসার এলাকায় তার এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে দেবীদ্বার থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
এজাহারভুক্ত আসামি আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
— মো. মনিরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে লাইলী আক্তারকে। তিনি চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

পুলিশের দাবি, লাইলী আক্তার এর আগে ২০২১ সালে পরকীয়ার জেরে একটি শিশু হত্যার মামলায় কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর দেবীদ্বারের বহুল আলোচিত ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডে তার নাম উঠে আসে।

ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লাইলী আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

দৈনিক আজকের কথা
ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্য ও মামলার তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
— সাগর বড়ুয়া
উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দেবীদ্বার থানা।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট রাতে দেবীদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় গৃহবধূ ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরদিন ৮ আগস্ট বিকেলে একই পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় তার মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি একাধিক পলিব্যাগে ভরে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া (৭২) বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লাইলী আক্তারসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেবীদ্বারসহ পুরো কুমিল্লায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আমির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হবে। হত্যাকাণ্ডে তার প্রকৃত ভূমিকা এবং অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রিন্ট করুন