
ঋণ ও এফডিআরের টাকা নিয়ে পালানোর অভিযোগ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) এক মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের ঋণের জমা, সঞ্চয় ও এফডিআরের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরতের দাবিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিডিবিএফের দেবীদ্বার কার্যালয়ে ভিড় করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
দেবীদ্বার-চান্দিনা সড়কের এএসপি সার্কেল দেবীদ্বার কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত পিডিবিএফ অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন হেড অফিসে পাঠানো হবে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, পিডিবিএফের অধীনে বিভিন্ন গ্রামে পরিচালিত সমিতির মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় জমা দিয়ে ঋণ নিয়ে আসছেন। অনেকেই ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করছেন। কেউ কেউ এফডিআর হিসেবেও সঞ্চয় জমা রেখেছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ২০২৫-২৬ সালে বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক গ্রাহককে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় বা জামানত হিসেবে নেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঋণ না দিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘোরানো হয়। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রায় আট বছর ধরে লেনদেন করতেন পিডিবিএফের মাঠকর্মী মো. শাহজাহান আলী। ফলে টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ওপরই বেশি নির্ভর করতেন গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগী শিরিন আক্তার বলেন, তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে শাহজাহান আলী তার কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে নেন। পুরোনো সঞ্চয় বইয়ে ওই টাকার হিসাবও লেখা হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি মাঠকর্মী হৃদয় দাসকে বইটি দেখালে তিনিও হিসাব ঠিক আছে বলে জানান। কিন্তু পরে শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, পুরোনো বইয়ের হিসাব গ্রহণযোগ্য নয় এবং ওই টাকা অফিসে জমা হয়নি।

একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিরিন আক্তারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর তিনি পিডিবিএফের দেবীদ্বার শাখার মাঠকর্মী শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে দেবীদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর শাহজাহান আলী পালিয়ে যান। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আরও শতাধিক গ্রাহক অফিসে এসে তাদের জমা টাকা ফেরতের দাবি জানান।
অন্যান্য ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঋণের জমা, ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও এফডিআরসহ শতাধিক গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকার বেশি মাঠকর্মী শাহজাহানের কাছে জমা রয়েছে। এখন তিনি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে থাকায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা ফেরতের বিষয়ে অফিসে যোগাযোগ করলে তাদের যথাযথ সহযোগিতা করা হচ্ছে না। তারা দাবি করেন, পিডিবিএফের শাখার মাধ্যমেই তারা নিয়মিত সঞ্চয় ও ঋণের লেনদেন করেছেন। তাই মাঠকর্মীর মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানকেও দায় নিতে হবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে পিডিবিএফের দেবীদ্বার শাখার হিসাবরক্ষক পারভিন আক্তার বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে সপ্তাহে দুই দিন তিনি ওই কার্যালয়ে কাজ করেন। এ বিষয়ে জেলার ডেপুটি ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

