প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

নিজ ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন, মুহূর্তেই ছাই ১১ পরিবারের ঘর!

পেট্রোলে আগুন, পুড়ল ১১ পরিবারের ঘর-দোকান
আজকের কথা ডেস্ক :

পেট্রোলে আগুন, পুড়ল ১১ পরিবারের ঘর-দোকান

রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে তিন কোটি টাকার ক্ষতির দাবি, যুবক আটক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল নামে এক যুবককে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

দৈনিক আজকের কথা
আমার ওয়ার্কশপের বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে। দোকানের পেছনে থাকা বসতঘরটিও পুরোপুরি পুড়ে গেছে। আমরা সর্বস্ব হারিয়ে এখন অসহায়।
— জাবের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রফিক উল্যার ছেলে সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ভোরে তিনি নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরবাড়ি ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাশাপাশি থাকা ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান আগুনে পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ি ও দোকানের টিন, আসবাবপত্র, ব্যবসায়িক মালামালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র পুড়ে যায়। আগুনের ভয়াবহতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগিতা করেন।

রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে আগুন লাগার খবর পান তারা। পরে রায়পুরের দুটি ও লক্ষ্মীপুরের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগুন লাগার পর সোহেলকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁর ঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে পেট্রোল ঢেলে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও দোকানের ধ্বংসাবশেষ। সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন