প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবীদ্বারে ক্ষেতমজুর সমিতির সম্মেলন: লিল মিয়া সভাপতি, রোবেল মিয়া সাধারণ সম্পাদক

দেবীদ্বারে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির উপজেলা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের দৃশ্য।
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক :

‘কাজ, মজুরি, জমি ও ইনসাফের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’

কাজ, মজুরি, জমি ও ইনসাফের দাবিতে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি উপজেলা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকার একটি স্থানীয় হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে লিল মিয়াকে সভাপতি ও রোবেল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যের নতুন উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

দৈনিক আজকের কথা
আমাদের লড়াই অত্যন্ত পরিষ্কার—আমাদের লড়াই কাজ, মজুরি, জমি, অধিকার এবং ইনসাফের লড়াই। মেহনতি মানুষের জন্য সরকারি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করতে হবে।
— কমরেড পরেশ কর
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি।

নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন তজুমদ্দিন মিয়া ও ফাতেমা বেগম। সহ-সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ কামাল এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন নাছিমা, কামাল উদ্দিন, বাদল মিয়া, মালু মিয়া, আব্দুল গফুর, নাছিমা বেগম ও নাজির মিয়া।

তজুমদ্দিন মিয়ার সভাপতিত্বে এবং মালু মিয়ার সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কমরেড পরেশ কর।

সম্মেলনে ক্ষেতমজুরদের বিভিন্ন দাবি ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন ক্ষেতমজুর নেতা জালাল উদ্দিন, আব্দুল গফুর ও নাছিমা আক্তার।

সংহতি জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সিপিবি জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সুধাংশু কুমার নন্দী, ‘নিজেরা করি’ সংস্থার বিভাগীয় সংগঠক আব্দুল জব্বার, কৃষক সমিতির জেলা নেতা আব্দুল ওয়াদুদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা সভাপতি দীপ্ত দেবনাথসহ অন্যরা।

সম্মেলনে বক্তারা সারাদেশে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। তারা দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য ৫ টাকা দরে আটা ও লবণ, ৩০ টাকা দরে তেল ও ডাল এবং ১৫ টাকা দরে চিনি সরবরাহের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অঞ্চলের ক্ষেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে জীবনযাপন করছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তাঁদের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। তাই ন্যায্য মজুরি, কাজের নিশ্চয়তা ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমরেড পরেশ কর বলেন, দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, ক্ষেতমজুর ও শ্রমজীবী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আয় বাড়ছে না।

তিনি বলেন, “আজকের এই মঞ্চ থেকে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি—অনতিবিলম্বে সারাদেশে সরকারি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। দেশের দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য ৫ টাকা দরে আটা ও লবণ, ৩০ টাকা দরে তেল ও ডাল এবং ১৫ টাকা দরে চিনি নিশ্চিত করতে হবে। এটি কোনো দয়া নয়, এটি মেহনতি মানুষের অধিকার।”

সম্মেলন শেষে নতুন কমিটির নেতারা ক্ষেতমজুরদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রিন্ট করুন