
রেল যোগাযোগে খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার
মোংলা-ঢাকা রুটে একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট নিরসনের পাশাপাশি মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত মাসিক পর্যালোচনা সভায় মোংলা-ঢাকা রুটে একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দেশের বিভিন্ন রেলপথে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ ও রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর করার বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মোংলা-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। এতে মোংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও গতিশীল হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোংলা বন্দর ও রাজধানী ঢাকার মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতেই নতুন ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোংলা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে প্রধানত সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। যানজট, দীর্ঘ যাত্রাসময় ও তুলনামূলক বেশি পরিবহন ব্যয়ের কারণে এ রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়।
নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে মোংলা, বাগেরহাটসহ আশপাশের এলাকার মানুষের রাজধানীতে যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ বাড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
রেলওয়েতে আরও একাধিক উদ্যোগ
শুধু মোংলা-ঢাকা রুট নয়, দেশের সামগ্রিক রেলসেবা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যেও ওই সভায় একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় নাজিরহাট লোকাল ট্রেনকে কমিউটার ট্রেনে উন্নীত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জামালপুর এক্সপ্রেসকে সার্কুলার রুটে চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া নরসিংদী কমিউটার ট্রেনের অব্যবহৃত রেক ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত নতুন একজোড়া কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে কারিগরি মতামত চাওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের এসব উদ্যোগকে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় রেলকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমবে সড়কের চাপ, বাড়বে অর্থনৈতিক গতি
মোংলা-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে সড়কপথের ওপর যাত্রীচাপ কিছুটা কমার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরি হবে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও গতিশীল হলে পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও পরোক্ষ সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সিদ্ধান্তটি যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে বাস্তবে ট্রেন চলাচল শুরু হলে মোংলা ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হবে।
মোংলা-ঢাকা রেল যোগাযোগের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে উঠতে পারে।

