প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সোনাতলায় স্কুল যেন ভূতের বাড়ি, ধসে গেছে দেয়াল

সোনাতলায় স্কুল যেন ভূতের বাড়ি, ধসে গেছে দেয়াল
আজকের কথা ডেস্ক :

বগুড়ার সোনাতলায় করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ধসে পড়েছে বিদ্যালয়ের পুরোনো শ্রেণিকক্ষের দেয়াল। কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও নড়বড়ে দরজা-জানালা। মরচে ধরা টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে ভিজে যায় মেঝে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্রও। ভেঙে পড়া দেয়াল ঘেঁষে জন্মেছে লতাগুল্ম ও আগাছা। পুরো পরিবেশ দেখলে মনে হয়, এটি কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনা—অনেকটা ভূতের বাড়ির মতো।

এমনই বেহাল দশা বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার শতবর্ষী করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়েই চলছে নিয়মিত পাঠদান। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

দৈনিক আজকের কথা
বর্তমান সরকার শিক্ষা সহায়ক সরকার। সম্প্রতি ঝড়ে ধসে যাওয়া একটি ভবন অর্থ সংকটের কারণে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের কারণে নিরপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
— আবু সাইদ
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি ঝড়ে ধসে পড়া একটি দেয়াল এখনও সংস্কার করা হয়নি। পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশও জরাজীর্ণ। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা-জানালার অবস্থাও নড়বড়ে। বৃষ্টির সময় মরচে ধরা টিনের চাল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এতে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় মেঝে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র।

বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেই কোনো টিউবওয়েল। ফলে শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানির সংকটেও পড়তে হচ্ছে। প্রতিদিন কাঁধে বইয়ের ব্যাগ, চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে একঝাঁক শিশু। কিন্তু জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও নানা সংকটে তাদের স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনাতলা উপজেলার অন্যতম পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি, পুরোনো ভবনের বেহাল দশা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তাদের মতে, সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনগুলো পাঠদানের উপযোগিতা হারাচ্ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার বা প্রয়োজন হলে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্যাম্পাসে টিউবওয়েল না থাকায় তারা বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করার আগ্রহ রয়েছে। শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

এলাকার শিক্ষানুরাগী সিরাজুল ইসলাম, আইয়ুব হোসেন নান্টু, ফসি উদ্দিন ও তোজাম্মেল হক বলেন, করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। এর অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, “বর্তমান সরকার শিক্ষা সহায়ক সরকার। সম্প্রতি ঝড়ে ধসে যাওয়া একটি ভবন অর্থ সংকটের কারণে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইতি আরা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান ও পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত করে নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

প্রিন্ট করুন