

ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের ভার্চুয়াল জগতে অসচেতনতার কারণে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ও হাস্যরসাত্মক বাস্তবতা নিয়ে কবি আলেয়া মান্নানের এই ব্যঙ্গাত্মক কবিতা। চেনা সম্পর্কের আড়ালে ফেক আইডির মায়াজাল কীভাবে মানুষকে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায়, তা-ই ফুটে উঠেছে এখানে। আমাদের পাঠকদের জন্য কবিতাটি উপস্থাপন করা হলো।
— আলেয়া মান্নান
ভুল হলো কেমন করে, ভাবি এখন মনে মনে। এই তো সেদিন দুজনে, পরিচয় হলো আনমনে।
ফেসবুকে ছিল কিছু আলাপ, মেসেঞ্জারে মিষ্টি কথার সংলাপ। আলাপ থেকে আবেগের সৃষ্টি, মনে জাগল ভালোবাসার দৃষ্টি।
ধীরে ধীরে জাগল প্রেম, দুজনেরই বিবাহ—এটাই তো প্রবলেম! নারী বলে, “আমার স্বামী জ্বালিয়ে দিল হাড়।” পুরুষ বলে, “বউকে নিয়ে করব না আর সংসার।”
দুজনের মাঝে কত কথা, মেসেঞ্জারে চলে বার্তা। “এসো, দুজনে দেখা করি গুলশান লেকের ধারে, ভালোবাসার শপথ নেব চোখে রেখে চোখ দুজনে।”
অবশেষে যথাস্থানে দুজন দিল ধরা। মুখোমুখি হতেই যেন চোখ ছানাবড়া!
দুজনেই তখন হিমশিম খায়, চিন্তার যেন শেষ নেই। মনের মাঝে প্রশ্ন জাগে— “এ কী হলো, এ কী সেই?”
নারী দেখে সামনে তার স্বামী— ছিঃ ছিঃ! কী সর্বনাশ! পুরুষ দেখে সামনে তার বিয়ে করা স্ত্রী—হায় সর্বনাশ!
ভুল আর ভুল, জীবনে আবার হলো একটি ভুল। ফেক আইডির প্রেমে পড়ে বউকেই দিল গোলাপ ফুল!

কবি আলেয়া মান্নান (এনআইডি অনুযায়ী নাম: মোসাঃ আলেয়া খাতুন)। তাঁর পিতা মরহুম ইমাম হোসাইন এবং মাতা মোসা. জুবাইদা খাতুন। তাঁর জন্মস্থান নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা।
শৈশব থেকেই দুরন্ত ও প্রাণবন্ত স্বভাবের আলেয়া মান্নান একজন ভ্রমণপ্রেমী মানুষ। তিনি বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন এবং মানবিক মূল্যবোধকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে ধারণ করেন।
তিনি একাধারে একজন মা, সংসারী, চাকরিজীবী ও জীবনসংগ্রামী নারী। পারিবারিক ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাকেও তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে নিয়েছেন।

ভুল আর ভুল’ কবিতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্পর্ক, আবেগ ও ভালোবাসার নামে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি এবং তার হাস্যরসাত্মক পরিণতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের পরিচয় কখন যে আবেগে রূপ নেয়, আর সেই আবেগ বাস্তবতার মুখোমুখি হলে কী ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—কবিতাটির মাধ্যমে বিষয়টি ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছি। পাঠকের মনে আনন্দের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার একটি বার্তাও পৌঁছাবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।
তাঁর লেখা ৪০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় দৈনিক, বিভিন্ন পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি মানুষের জীবন, অনুভূতি, সম্পর্ক ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
তাঁর কাছে কবি পরিচয়ের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল, মানবিক ও ভালো মনের মানুষ হয়ে ওঠাই জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।