
মহেশখালীর বাসিন্দা হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন?
তিন ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, তারা কক্সবাজারের মহেশখালী ও আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের এ দাবি সত্য হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কক্সবাজারের বাসিন্দা হয়েও তাদের কেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে হলো?
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তারা যদি সত্যিই কক্সবাজারের স্থায়ী ও জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নেওয়া হয়নি কেন? তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখন যারা স্বাক্ষ্য বা প্রত্যয়ন দিচ্ছেন, সেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কি আগে তাদের নাগরিকত্ব ও জন্মপরিচয়ের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে পারতেন না?
এখানেই প্রশ্ন উঠছে—দেবীদ্বারে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলো কীভাবে এবং কার মাধ্যমে? যদি প্রক্রিয়াটিতে নিয়মবহির্ভূত কোনো সুপারিশ, প্রত্যয়ন, তথ্য সরবরাহ বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে শুধু জন্মনিবন্ধনকারী কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ করলেই কি তদন্ত সম্পূর্ণ হবে? প্রত্যয়নদাতা, সুপারিশকারী এবং জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকাও কি খতিয়ে দেখা হবে না?
ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এ ধরনের দাবি এখনো প্রমাণিত নয়। তাই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।
তারা বাংলাদেশি নাগরিক হলে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসনের নথি, ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পারিবারিক রেকর্ড ও পূর্ববর্তী নাগরিক সনদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে ঠিক কোন কাগজপত্র ও কার প্রত্যয়ন বা সুপারিশের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, যদি তদন্তে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে সেই তথ্যও প্রমাণসহ জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। কারণ এখানে শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়—জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়নকারীদের দায়ও সামনে আসার প্রশ্ন রয়েছে।
সুতরাং মূল প্রশ্ন একটাই—তারা যদি মহেশখালীর বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকই হন, তাহলে দেবীদ্বারে এসে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? আর যদি প্রয়োজন না থাকে, তাহলে এই জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কার স্বার্থ কাজ করেছে—তারও নিরপেক্ষ তদন্ত কি হবে?