

ইউনিফর্ম পরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ; পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি ও জিডি প্রত্যাহারে হুমকির অভিযোগ
চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ হালিশহর থেকে বেপজা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাহিদা আক্তার মিথিলা নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পার হলেও এখনো তার সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের পর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং থানায় করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর কলেজের ইউনিফর্ম পরে বাসা থেকে বের হন মিথিলা। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে বন্দর থানায় জিডি করেন।
পরিবারের অভিযোগ, জিডি করার পরপরই একটি ভিওআইপি নম্বর থেকে তাদের ফোন করে জিডি প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। একই ফোনে মিথিলাকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে কোথায় বা কীভাবে টাকা দিতে হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
মিথিলার ভাই হৃদয় জানান, জিডি করার পর তার মোবাইল ফোনে ‘ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপস’ নামে একটি ভিওআইপি নম্বর থেকে কল আসে। ওই ফোনে জিডি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি তিনি জিডির তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থী নিখোঁজের জিডি পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ কাজ করছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে সম্ভাব্য সব ধরনের তথ্য ও সূত্র যাচাই করা হচ্ছে। পরিবারের কাছে আসা কথিত মুক্তিপণ দাবির কলের ফরেনসিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি কলদাতাদের শনাক্তের চেষ্টাও চলছে।
“মিথিলাকে খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য সব ক্লু যাচাই করা হচ্ছে। পরিবারের কাছে করা কথিত মুক্তিপণ দাবির কলের ফরেনসিক বিশ্লেষণসহ এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
খায়রুল বাশার সাজিদ, জিডির তদন্ত কর্মকর্তা।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের জিডি পাওয়ার পরপরই পুলিশ কাজ শুরু করেছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

শিক্ষার্থী নিখোঁজের জিডি পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ কাজ করছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাহিদা আক্তার মিথিলাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার অবস্থান শনাক্ত এবং দ্রুত উদ্ধারে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।