

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজা ও দাফন আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ সেপ্টেম্বর সাধারণ শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম শনিবার রাতে জানান, রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সকাল ১১টায় গন্ধমতি এলাকার তার বর্তমান বাসার কাছে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা রোববার স্থগিত থাকবে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হবে।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০ সেপ্টেম্বর সাধারণ শোক ঘোষণা করেছে।
এর আগে শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের ভাষ্য, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর সে বাসায় ফেরেনি। তার সঙ্গে থাকা আইফোনটিও এখনো উদ্ধার হয়নি।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় অপ্রতিমের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অপ্রতিমের মৃত্যু নিয়ে তার পরিবার, সহপাঠী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।