

প্রবাসী ব্যবসায়ী থেকে সমাজসেবক—কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় লুৎফর
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রবাসী ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো. লুৎফর রহমানের। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি নিজ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় তার প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
১৯৮৩ সালে মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মো. লুৎফর রহমান। তিনি আলহাজ্ব মো. আব্দুল খালেক ও আম্বিয়া খাতুন দম্পতির সন্তান। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি একজন।
লুৎফর রহমানের ছোট ভাই মরহুম হাবিবুর রহমান হাবু ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দারোরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী ২০২২ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন। তবে গত বছর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর ওই ওয়ার্ডে এখনো উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
কাজিয়াতল বড়বাড়ি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফয়জুল উলুম ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মুরাদনগর বড় মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন লুৎফর রহমান। ১৯৯৭ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রমের পর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা পান এবং ‘সৌদি বিল্ডিং মেইনটেনেন্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
প্রবাসে ব্যবসার পাশাপাশি দেশের নিজ এলাকার তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও তিনি কাজ করে আসছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তার দাবি, এ পর্যন্ত আট হাজারের বেশি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
এ ছাড়া কাজিয়াতলসহ দারোরা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহের উন্নয়ন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি সহযোগিতা করে আসছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আলহাজ্ব মো. লুৎফর রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও এলাকার মানুষের কথা ভুলে যাননি। তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন। এলাকার মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা ও সমাজের জন্য কাজ করার আগ্রহের কারণে তাকে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলহাজ্ব মো. লুৎফর রহমান বলেন, মানুষের পাশে থেকে সেবার পরিধি আরও বাড়াতে চান তিনি। কাজিয়াতলসহ পুরো দারোরা ইউনিয়নকে আধুনিক ও বৈষম্যহীন একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা ও দোয়া চান।
স্থানীয়দের একটি অংশও দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবককে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলে জানা গেছে।
তবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে তার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন-সংক্রান্ত পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর।