

দেবীদ্বারে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল নাতি আরমানের
নানির বাড়ি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, অসহায় বৃদ্ধার শেষ ভরসাও কেড়ে নিল মৃত্যু
কুমিল্লার দেবীদ্বারে নানির বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরমান হোসেন (২৪) নামে এক যুবক। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার চরবাকর বাসস্টেশনসংলগ্ন অটো ব্রিকস ফিল্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কুমিল্লাগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে অটোরিকশাটি সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে যাত্রী আরমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় অটোরিকশাচালক আহত হন।
দুর্ঘটনার পর সড়ক অবরোধের কারণে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরে সকাল ১০টার দিকে দেবীদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নাতিই ছিল আমার শেষ ভরসা, সেই নাতিও চলে গেল
নিহত আরমান হোসেন সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, আরমানের নানার বাড়ি দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামে। সিলেট থেকে ট্রেনে কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নানার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। পথে চরবাকর এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান।
এদিকে নাতির মরদেহের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৭০ বছর বয়সী নানি রাবেয়া খাতুন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী ও ছেলে কেউ বেঁচে নেই। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। নাতি আরমানই তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। নাতিকে হারিয়ে এখন তাঁর শেষ আশ্রয়টুকুও যেন হারিয়ে গেল।
রাবেয়া খাতুন আরও জানান, আরমানের তিন বছর বয়সী আরিয়ান নামে একটি ছেলে রয়েছে। তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আরমানের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।