

মেয়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের আকুতি, হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি পরিবারের
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৪) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর এক বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন মা কেয়া খাতুন। মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়া এই মা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কেয়া খাতুন বলেন, সন্তানকে হারিয়ে তাঁর পৃথিবী শূন্য হয়ে গেছে। মেয়ের মৃত্যুর পর ছবি তুলে আর কী হবে—এমন আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি।
কেয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তখন তাজমিন এক বান্ধবীর সঙ্গে থাকার কথা জানিয়ে মাকে সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে বলেছিল। তবে বারবার জানতে চাইলেও ওই বান্ধবীর নাম এবং তার মা-বাবার পরিচয় জানায়নি তাজমিন। মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ওই বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ওই বান্ধবীর আচরণ ভালো ছিল না।
তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাঁর মেয়ে। পরে বিভিন্ন সময়ে ফোনে যোগাযোগ করলে তাজমিন বান্ধবীর বাড়িতে থাকার কথা জানাত।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মেয়ের কাছ থেকে একটি খুদে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পারেননি। শুক্রবার সকালে বার্তাটি দেখে দেওয়া লোকেশন অনুযায়ী মেয়েকে খুঁজতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই মেয়ের মৃত্যুর খবর পান তিনি।
আবদুল আলীম বলেন, কারা এবং কী কারণে তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাজমিনকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে কুমিল্লার লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।