আজকের কথা ডেস্ক :
বাবা নেই, স্বামী নেই, নিজের নামে নেই এক টুকরো জমি। ভাইয়ের ঘরের এক কোণে দুই যমজ সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে বিধবা নাজমা আক্তারের। মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে চলে তাঁর সংসার। অর্থাভাবে মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ, আর অসুস্থ মায়ের চোখে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। এমন পরিস্থিতিতে নাজমার পুনর্বাসনে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খানের মানবিক উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিয়াতল গ্রামের চাঁনগাজী মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা নাজমা এলাকায় নাসু নামে পরিচিত। ২০১৪ সালে স্বামী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। তাঁর যমজ সন্তান শাহিন আলম ও সুলতানা আক্তার মীমের বয়স ১৭ বছর। ছেলে কোরআন হিফজ শেষ করে বর্তমানে শুনানি পড়ছে। কিন্তু অভাবের কারণে মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। ডান চোখে কিছুটা সমস্যা থাকলেও নাজমা মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।
নাজমা বলেন, “আমি কারও কাছে বিলাসী জীবন চাই না। শুধু সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার মতো একটু জায়গা চাই। সরকার যদি আমাকে এক টুকরো জমি দিত, সেখানে ছোট্ট একটি ঘর করে সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারতাম। আমি কাজ করতে পারি। একটি কাজের সুযোগ পেলে নিজের পরিশ্রমে সংসার চালাতে পারব।”
নাজমার অসুস্থ মা মনোয়ারা বেগমও মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “আমার মৃত্যুর আগে যদি দেখে যেতে পারতাম, আমার বিধবা মেয়েটি তার সন্তানদের নিয়ে থাকার মতো একটা জায়গা পেয়েছে, তাহলে মরেও শান্তি পেতাম।”
এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আবদুল লতিফ নাজমার পুনর্বাসনে মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে এসিল্যান্ড সাকিব হাসান খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, নাজমার বাবার বাড়ির পাশে ১৮৫ নম্বর কাজিয়াতল মৌজায় সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সাবেক দাগ নম্বর ৩৫৭৭ এবং বিএস দাগ নম্বর ৪৫০৭৫-এ ৪.০৮ শতাংশ জমি রয়েছে।
তিনি জমিটির রেকর্ড, বর্তমান অবস্থা ও বরাদ্দযোগ্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী নাজমার পুনর্বাসনের সুযোগ বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় তাঁর যোগ্যতা যাচাই এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
জমিটি আইনগতভাবে বরাদ্দযোগ্য হলে এবং নাজমা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে সরকারি উদ্যোগে তাঁর মাথা গোঁজার ঠাঁই হতে পারে। একটি ছোট ঘর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বদলে দিতে পারে দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁর অনিশ্চিত জীবন। এখন নাজমার পরিবারের প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।