

জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্ভাবনী প্রকল্পে সেরা, উচ্ছ্বসিত পরিবার ও এলাকাবাসী
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি দল। বিজয়ী দলের সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের কৃতী শিক্ষার্থী জারা তাসনুভা আলম।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক্সপোর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জারা তাসনুভা আলম (২১) এবং তার সহপাঠী হুমায়রা তাবাসসুম তুরাজার দলের তৈরি জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রকল্পটি বিচারকদের বিবেচনায় প্রথম স্থান অর্জন করে। দলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি ও পুরস্কার গ্রহণ করেন জারা ও হুমায়রা।
তাদের এই সাফল্যকে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তরুণ শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্ভাবনী প্রকল্পটি এক্সপোতে উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
জারা তাসনুভা আলম দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মেয়ে। মেয়ের এমন সাফল্যে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি দেবীদ্বারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে জারা তাসনুভা আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করা আমার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। এই অর্জন আমাদের পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমাদের প্রকল্পটি ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। আমার পথচলায় সব সময় পাশে থাকার জন্য বাবা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
গর্বিত বাবা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, “আমার মেয়ে জারা তাসনুভা আলমসহ তার দলের তৈরি জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রকল্পটি এক্সপোতে প্রথম স্থান অর্জন করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চায় এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছি।”
তিনি জানান, তার দ্বিতীয় মেয়ে সারাহ তাসফিয়া আলম (১৯) গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে (আইইউটি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ছেন। একমাত্র ছেলে আইয়ান মুকতাদির আলম (১৩) বুয়েট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সন্তানদের ভবিষ্যৎ সাফল্য ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য সবার দোয়া কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের মাধ্যমে তারা যেন দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকেরা জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব নানা প্রকল্প প্রদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দলটির উদ্ভাবন প্রথম স্থান অর্জন করে।