

কুমিল্লার মুরাদনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনার পর ৫২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসব অভিযানে প্রায় ৫০০টি অবৈধ ড্রেজার ধ্বংস ও অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় দুই লাখ ফুট পাইপ ধ্বংস ও অপসারণ করা হয়েছে। অভিযানে জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের পর অবৈধ বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ-সংক্রান্ত রিট পিটিশন নম্বর ১৪১০৮/২২।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ও ৫২ ধারায় এসব অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার সড়ক, জলাশয় ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। কোথাও কোথাও ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে সড়ক ও কৃষিজমির ওপর দিয়ে বালু পরিবহন করা হচ্ছিল। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং জনসাধারণের চলাচলের সড়ক ও কৃষিজমি রক্ষায় অভিযান চালানো হয়।
প্রতিবেদনে কয়েকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি মুক্তি ব্রিকসকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চালিয়া কাচি-২ এলাকার রুবিয়া ব্রিকসকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় মোবাইল কোর্ট মামলা নম্বর ০১/২০২৫। ৬ ফেব্রুয়ারি ধামঘর-৩ এলাকার শাপলা ব্রিকসকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যার মামলা নম্বর ৩০/২০২৫। বাঘারনগর এলাকার একটি ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্গম এলাকায় গিয়ে ড্রেজার জব্দ করা সম্ভব না হওয়ায় ২১টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে পুকুর বা গর্ত খননের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় পরবর্তী সময়ে গর্ত বা পুকুর ভরাটের নির্দেশ এবং এ-সংক্রান্ত ব্যয় আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
অবৈধ ড্রেজার পরিচালনাকারীদেরও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলন ও ড্রেজিংয়ের ঘটনায় কয়েকটি মামলা ও মোবাইল কোর্টের নথির তথ্য প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও আসামিদের গ্রেপ্তারে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের সঙ্গে ড্রেজার-সংক্রান্ত ১৬ ফর্দ তথ্য, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ২৪ ফর্দ প্রতিবেদন, ৫২টি মোবাইল কোর্টের আদেশ এবং একটি স্থিরচিত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মুরাদনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে সাকিব হাসান খান প্রতিবেদনটি স্বাক্ষর করে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠান।