সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরীর উপর হামলা—
- ১২ মে ২০২৫, কুমিল্লা জেলা আদালতে হামলা।
- ডান পা ও বাম হাত ভেঙে গুরুতর আহত।
- ২০২০ সালে কাজিয়াতল গ্রামে একই ধরনের নির্মম হামলা।
- ছয়টি বড় অস্ত্রোপচারের পরও চিকিৎসা অসম্পূর্ণ।
- বর্তমানে ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাবিহীন।
- বিএমএসএফ এর তীব্র নিন্দা ও নিরাপত্তার দাবি।
- বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সংকট ও গণমাধ্যম স্বাধীনতার বড় ঝুঁকি।
ঢাকা, বাংলাদেশ : সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরীর ওপর হামলা আবারও প্রমাণ করল, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যম স্বাধীনতা কতটা সংকটাপন্ন। ১২ মে ২০২৫, কুমিল্লা জেলা আদালত প্রাঙ্গণে আইনি প্রতিবেদন কাভার করতে গিয়ে তিনি একদল অজ্ঞাত হামলাকারীর নির্মম হামলার শিকার হন, যার ফলে ডান পা ও বাম হাত ভেঙে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাবিহীন পড়ে আছেন।
চলতি বছরের গত ১২ মে, কুমিল্লা জেলা আদালত প্রাঙ্গণে একটি আইনি প্রতিবেদন কাভার করার সময় শরিফুল আলম চৌধুরীকে একদল অজ্ঞাত হামলাকারী নির্মমভাবে আক্রান্ত করে। তাদের হামলায় তার ডান পা ও বাম হাত ভেঙে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি পড়ে যান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এটি তার প্রথম হামলা নয়। ২০২০ সালের ৪ জুলাই, তার নিজ গ্রামের কাজিয়াতল থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক চক্রের লোকজন তাঁকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে নির্মমভাবে পেটায়, যার ফলে তার উভয় পা ও হাত ভেঙে যায়। ছয়টি বড় অস্ত্রোপচার করানো হলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রয়েছে।
গত প্রায় পাঁচ বছর তিনি আতঙ্কে নিজ গ্রামে ফিরতে পারেননি এবং আত্মগোপনে ছিলেন। সাম্প্রতিক হামলাটি তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।
বর্তমানে শরিফুল আলম চৌধুরী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় পড়ে আছেন, কারণ তিনি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বহন করতে পারছেন না। তার অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং তৎক্ষণাৎ অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তৎক্ষণিক বিচার ও সাংবাদিকের নিরাপত্তা দাবী করেছে। তবে এখনো রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা না থাকার কারণে হামলাকারীরা দণ্ডমুক্তির সুযোগ পাচ্ছে।
এই নির্মম সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরীর ওপর হামলা গণমাধ্যমকর্মীদের জীবনের ঝুঁকি ও দায়িত্ব পালনে ভয়াবহ বাধার স্পষ্ট প্রমাণ। বাংলাদেশে সাংবাদিকতা যেন কোনোভাবেই মৃত্যুদণ্ডে পরিণত না হয়—এমন একটি নিরাপদ ও দণ্ডমুক্ত পরিবেশ এখন সময়ের দাবি।

তনুজা শারমিন তনু