📌 সাংবাদিক নির্যাতন ঘটনার হাইলাইটস:
- ১২ মে ২০২৫, কুমিল্লা জেলা আদালতে সাংবাদিক শরিফুল আলমের উপর হামলা
- ডান পা ও বাম হাত ভেঙে গুরুতর আহত
- ৩০ মে শুক্রবার মুরাদনগরে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
- ২০২০ সালেও তাঁর উপর হয়েছিল নির্মম হামলা
- দীর্ঘদিন আত্মগোপনে, বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাবিহীন অবস্থায়
- বিএমএসএফ-এর নিন্দা ও নিরাপত্তার জোর দাবি
- সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে
সাংবাদিক শরিফুল আলমের উপর হামলা আবারও প্রমাণ করল যে বাংলাদেশে সত্য প্রকাশের মূল্য অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। ১২ মে ২০২৫ তারিখে কুমিল্লা জেলা আদালত প্রাঙ্গণে রিপোর্টিং করতে গিয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে তিনি ভয়ংকর হামলার শিকার হন। ডান পা ও বাম হাত ভেঙে গিয়ে তিনি বর্তমানে চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
৩০ মে ২০২৫ শুক্রবার, কুমিল্লার মুরাদনগরে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রতিবাদী মানববন্ধন, যেখানে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। তাঁরা দাবি করেন, বারবার সাংবাদিক নির্যাতন ও সাংবাদিকদের উপর হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সাংবাদিক শরিফুল আলম ১২ মে জেলা আদালত প্রাঙ্গণে রিপোর্টিং করতে গিয়ে হঠাৎ করেই সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। ওই হামলায় তাঁর ডান পা এবং বাম হাত ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় আছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
এমন নয় যে, এটি তাঁর জীবনের প্রথম হামলার ঘটনা। ২০২০ সালের ৪ জুলাই তাঁর উপর একইরকম নির্মম হামলা হয়, যেখানে দুই হাত ও পা ভেঙে যায় এবং ছয়টি অস্ত্রোপচার করতে হয়। টাইটেনিয়াম রড বসানো হলেও তা এখনো অপসারণ করা যায়নি।
এ ঘটনার পর তিনি দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। এবার নতুন হামলার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না আসায় উদ্বেগ বেড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “এভাবে আর কত সাংবাদিক নির্যাতন? আমরা কেবল টুপি পরে প্রেস লিখে ঘুরি না, আমরা জনগণের মুখপাত্র। আমাদের নিরাপত্তা চাই।”
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ), জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সহ বিভিন্ন সংগঠন হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করে।
এই অবস্থায় সাংবাদিক শরিফুল আলমের উপর হামলা-এর বিচার শুধু একটি ব্যক্তি নয়, সমগ্র সাংবাদিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের উচিত দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং শরিফুলের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
শরিফুল আলমের উপর হামলা কেবল একজন পেশাদার সাংবাদিকের উপর আক্রমণ নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ। বারবার সাংবাদিক নির্যাতন করা, প্রশাসনিক নিরাপত্তার অভাব এবং চিকিৎসা ব্যয়ে জর্জরিত অবস্থা আমাদের জানান দেয়, সাংবাদিকতা এখন যেন এক ধরনের আত্মাহুতি। রাষ্ট্র যদি এ ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে, তবে এই সন্ত্রাসের রাজনীতি আরও গভীর হবে। এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা জরুরি।

তনুজা শারমিন তনু