প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

৪৪ বছর পরও জিয়া হত্যা রহস্য উন্মোচন হয়নি: বিএনপি কেন চুপ?

1748509304 f41d3eaac28a1417666cde9c746de992
আজকের কথা ডেস্ক

আজ ৩০ মে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের চিটাগাং সার্কিট হাউসে সেনা অভ্যুত্থানের সময় তিনি নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের চার দশক পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ বিচার হয়নি।

আশ্চর্যজনকভাবে, যাঁর নাম ভরসা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেছে, সেই জিয়াউর রহমানের হত্যার বিচার বিষয়ে দলটি কার্যত নিশ্চুপ।

🔎 ক্ষমতায় থেকেও বিচার না করার প্রশ্ন

বিএনপি ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিন দফা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকেছে। এই দীর্ঘ সময়ে দলটি জিয়া হত্যার তদন্ত বা পূর্ণাঙ্গ বিচারিক কাঠামো দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং বিষয়টি বরাবরই এড়িয়ে গেছে।

তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও মামলাটি রাজনৈতিকভাবে আর এগোয়নি। ফলে আজও নিহত রাষ্ট্রপতির হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রশ্ন অব্যাহত।

🧩 কে মারলো জিয়াউর রহমান?

১৯৮১ সালের ৩০ মে সেনা অভ্যুত্থানের সময় জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে ছিলেন। রাতে সার্কিট হাউসে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকেই পরে বিচার ছাড়াই মৃত্যুবরণ করেন বা আত্মগোপনে চলে যান।

ঘটনার পেছনে মূল হোতা কে ছিলেন—এ প্রশ্নের উত্তর আজও অমীমাংসিত।

🧭 রাজনৈতিক পুঁজি, নাকি নৈতিক দ্বিধা?

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জিয়াউর রহমানের নামে দল গড়লেও বিএনপি কখনও তার মৃত্যুর বিচারকে রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করেনি। তারা বরং সেই হত্যাকাণ্ডকে ইতিহাসের পেছনে ফেলে রেখে এগোতে চেয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা যেখানে জিয়াকে ‘দেশের স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে তুলে ধরেন, সেখানে তার হত্যার বিচার প্রশ্নে দলের নিরবতা রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে দেখা দেয়।


📌 শেষ কথাঃ

আজ ৪৪ বছর পেরিয়ে গেছে। জিয়ার নাম বেঁচে আছে রাজনীতিতে, পোস্টারে, বক্তৃতায়। কিন্তু তার মৃত্যুর বিচার হয়নি, হয়নি সত্য প্রকাশ। এই নীরবতাই কি সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা নয়?

প্রিন্ট করুন