প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

টিনের ঘর থেকে প্রাসাদে: মাসুকুল ইসলামের রাজনৈতিক নাটকীয় উত্থান ও পতন

Screenshot 2025 05 31 04 36 24 19 a23b203fd3aafc6dcb84e438dda678b6
আজকের কথা ডেস্ক

 


🎯 হাইলাইটস:

  • মুরাদনগরের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
  • পুলিশ প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করে চলতেন ‘ছায়া এমপি’র মতো
  • এলজিইডি, কাবিখা, কাবিটা, এমনকি টিউবওয়েলেও ভাগ চাইতেন বলে অভিযোগ
  • সোনারগাঁও হোটেলে কোটি টাকার ষড়যন্ত্রের ‘মূল নায়ক’ তিনি
  • জামাতার হাতে বিএনপির পতাকা তুলে দিয়ে আলোচনায়
  • দলীয় ত্যাগী কর্মীদের বঞ্চনার পেছনে চামচাদের ভূমিকা

✍️ মূল প্রতিবেদন:

মুরাদনগর রাজনীতির আলোচিত এক নাম মাসুকুল ইসলাম মাসুক। এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সাবেক সম্পাদক এবং মুরাদনগরের দ্বিতীয় সংসদ সদস্য এই ব্যক্তি এখন নানাবিধ বিতর্কে জর্জরিত।

একটি ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে— যেখানে জামাতার হাতে বিএনপির পতাকা, আর পাশে মাসুকুল সাহেব দাঁড়িয়ে। মানুষ বলছে— “মাশা-আল্লাহ, কী সুন্দর দৃশ্য!” অথচ এ ছবি ধারণ করে রেখেছে এক রাজনৈতিক নাটকের ভয়াবহ সত্য।

জনাব জাহাঙ্গীর আলম সরকার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর মাসুকুল নিজেকে “এমপি বানানোর কারিগর” হিসেবে দাবি করতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, মুরাদনগর ও দৌলতপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করার সাহস পেত না। সকাল থেকে গভীর রাত— থানার অস্ত্রাগার হোক বা গ্রামের দরবার, মাসুকুল সর্বত্র উপস্থিত থাকতেন।

তিনি নাকি সবাইকে “আত্মীয়” বানাতেন— তবে সেই আত্মীয়তা হতো শুধু টাকার বিনিময়ে।
কোন প্রকল্পে টাকা এলো, আর মাসুকুলের ভাগ থাকলো না— এমন ঘটনা নাকি ছিল না বললেই চলে।

  • টি আর, কাবিখা, কাবিটা: ভাগ না দিলে বরাদ্দ বাতিল
  • এলজিইডির কাজ: মাসুকুল ছাড়া ঠিকাদার চূড়ান্ত নয়
  • টিউবওয়েল: জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশ করতে হতো মাসুকুলের নামেই

এক সময়ের “টিনের ঘরের বাসিন্দা” এখন বিশাল প্রাসাদের মালিক, যেখানে প্রতিটি রুমে লাগানো এসি! দলীয় রাজনীতির নামে দুর্নীতির এই বিস্তার অবশেষে উপজেলাতেও গড়ায়। তানভীর আহমেদ ফয়সালকে প্রার্থী বানিয়ে সোনারগাঁও হোটেলে কোটি টাকার ষড়যন্ত্রের নেতৃত্বে ছিলেন তিনিই। ঐ দিনের হোটেল বৈঠকের ছবিও ছড়িয়ে পড়ে।

সবশেষে, ৫ আগস্টের পরে হঠাৎ করে তিনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা হয়ে পড়েন নিরুদ্দেশ। এবং সেই সাথে শুরু হয় বাস্তব নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের প্রতি চরম বঞ্চনা। যারা আওয়ামী লীগের জন্য ত্যাগ করেছেন, তাঁরাই আজো চামচা সংস্কৃতির ভুক্তভোগী।

শেষে, রাজনীতি বাঁচাতে তিনি জামাতার হাতে তুলে দেন বিএনপির পতাকা— যেন এক জাতীয় প্রতীকীর অপমান।

প্রিন্ট করুন