বিএনপিসহ দেশের অন্তত ১০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে চারটি দল নির্বাচন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায়। ছয়টি ধর্মভিত্তিক দল সংস্কারের অগ্রাধিকার চাচ্ছে। সর্বশেষ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ১৮টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে জাতীয় পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দলও দ্রুত নির্বাচন চায়।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ছিল মোট ৫৫টি, যার মধ্যে জামায়াতসহ পাঁচটির নিবন্ধন বাতিল এবং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। অনিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে বিএনপির মিত্র ১২ দলীয় জোটসহ আরও কিছু দল ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়, যদিও অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া গোষ্ঠীগুলো এ দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
বিএনপি ও মিত্রদের অবস্থান
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের কাছে রোডম্যাপ দাবি করে আসছে। গত ২৪ মে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো বৈঠকে তারা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চূড়ান্ত করার দাবি তোলে। এ বিষয়ে আশ্বস্ত না হওয়ায় গত বুধবার ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে।”
বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনের দাবিতে একমত যে ১০টি নিবন্ধিত দল সেগুলো হলো:
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণফোরাম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণঅধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং গণতন্ত্র মঞ্চের অংশ জেএসডি।
বাম ও বামঘেঁষা দলের মত
বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং তাদের সহযোগী ৫০টিরও বেশি দলও এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ উভয়েই দ্রুত নির্বাচন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
জামায়াত ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান
জামায়াতে ইসলামি ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন চায়। তবে সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের জন্য তারা আগে গঠনমূলক সংস্কার ও বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে চায়। এ দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অন্যদিকে ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ পাঁচটি ধর্মভিত্তিক দল সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনেরও প্রস্তাব দিয়েছে।
এনসিপির শর্তযুক্ত অবস্থান
গঠনপ্রক্রিয়াধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনের আগে বিচার ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংসদের আগে স্থানীয় সরকার ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হোক। দলটি বর্তমানে নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারে তৎপর।
রোডম্যাপ দাবি করে যারা
নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সূচি বা রোডম্যাপ চায় গণতন্ত্র মঞ্চের অন্তর্ভুক্ত তিনটি নিবন্ধিত দল — জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য এবং গণসংহতি আন্দোলন। একই দাবিতে রয়েছে এবি পার্টিও। এ দলগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়, তবে তারা সময়সীমা নির্ধারণে আরও স্বচ্ছতা চায়।
সরকারঘনিষ্ঠ দলগুলোর নিরবতা
আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ দলগুলোর অধিকাংশই রাজনীতি থেকে অনেকটা ছিটকে পড়েছে। জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্যরা চুপচাপ রয়েছে। এই দলে রয়েছে: জাতীয় পার্টি-জেপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্পধারা, গণতন্ত্রী পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি, কল্যাণ পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, ইসলামিক ফ্রন্টসহ অন্তত ২০টিরও বেশি দল।
তাদের একজন নেতা বলেন, “আমাদের কেউ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করে না, তাই আমরা এ বিষয়ে মুখ খুলি না।”

আজকের কথা ডেস্ক