তেমুরিয়ায় পুকুরে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানাধীন তেমুরিয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে শনিবার (৩১ মে) সকালে রানী বালা সরকার (৬৫) নামের এক মানসিক অসুস্থ বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রানী বালা সরকার উপজেলার কামাল্লা গ্রামের জয়ন্ত সাহার বাড়ির মৃত নিবারণ সরকারের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালবেলায় রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের বাচ্চু মিয়ার বাড়ির পুকুরে স্থানীয়রা এক নারীর লাশ ভাসতে দেখে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, রানী বালা সরকার দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি ভবঘুরের মতো একা একা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। কোথাও থিতু না হয়ে অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছিলেন। ঘটনার দিন তিনি কোথা থেকে এসেছেন কিংবা কীভাবে পুকুরে পড়েছেন, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।
রানীর পুত্রবধূ শিপ্রা সরকার জানান, “আম্মা প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন, আমরা খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসতাম। এবার হয়তো আর পারিনি। অনেক কষ্ট হচ্ছে।”
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, “লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা না অন্য কিছু— ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, তেমুরিয়ায় পুকুরে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যে সামাজিক ও পারিবারিক অবহেলা উঠে এসেছে, তা দুঃখজনক। একজন মানসিক অসুস্থ বৃদ্ধা নিরাপত্তাহীনতায় জীবন হারালেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজকেও ভাবতে হবে।
🧭 পর্যবেক্ষণ:
তেমুরিয়ায় পুকুরে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি সমাজের একটি গভীর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। মানসিকভাবে অসুস্থ, অসহায় এক বৃদ্ধা দিনের পর দিন ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়ালেও পরিবার বা সমাজ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়নি। ফলে এমন করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হলো তাঁকে। আমাদের সমাজে এখনো মানসিক রোগীদের প্রতি যত্ন, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার ঘাটতি প্রকট। এ ঘটনায় প্রশাসনের তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি হয়ে উঠেছে।

ফাহিমা বেগম প্রিয়া