জুলাই আন্দোলনে শহীদ সেলিম জীবিত—এমন বিস্ময়কর ঘটনা এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একজন জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসি নাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মামলা! আর সেই সেলিম নিজেই থানায় হাজির হয়ে বলছেন, “আমি মরিনি।” এই ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
একজন জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ দেখিয়ে মামলা! এতে প্রধান আসামি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! আর সেই ‘হত্যার শিকার’ ব্যক্তি নিজেই থানায় গিয়ে জানাচ্ছেন— “আমি মরিনি, দিব্যি বেঁচে আছি।”
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার মুদি দোকানি মো. সোলাইমান হোসেন সেলিমের ঘটনায় ফুটে উঠেছে দেশের বিচারব্যবস্থা ও পুলিশি তদন্তের ভয়াবহ ব্যর্থতা। নিজের ভাইয়ের দায়ের করা ‘হত্যা মামলায়’ তিনি ‘শহীদ’, অথচ বর্তমানে তিনি জীবিত, সুস্থ ও নিজের দোকানে ব্যবসা করছেন।
২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন গোলাম মোস্তফা ওরফে মস্তু। মামলায় বলা হয়, ৩ আগস্ট সেলিম ঢাকায় আন্দোলনের সময় নিহত হন। কিন্তু বাস্তবে সেলিম সেদিন ময়মনসিংহের ধামর এলাকায় দোকানে বসে ছিলেন।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ সেলিম ঘটনার মামলার তালিকায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪১ জনের নাম রয়েছে। রয়েছে ১৫০–২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি। মূল উদ্দেশ্য ছিল জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে সেলিমকে সরিয়ে দেওয়া।
সেলিমের ভাষ্য, “ভাইয়েরা আমার সম্পত্তির লোভে আমাকে ‘মৃত’ বানিয়েছে। সত্যিকারের হত্যার চেষ্টা করলে আশ্চর্য হব না।”

পুলিশের মতে, বাদী মস্তু একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। থানার ওসি বলেন, “ভুয়া মামলা করে সে রাজনৈতিক সহানুভূতি পেতে চায়।”
স্থানীয়রা বলছেন, “এটা শুধু সেলিমের সমস্যা না—পুলিশি ও বিচার ব্যবস্থার ভয়াবহ ব্যর্থতা। জীবিত মানুষকে ‘শহীদ’ বানানো অন্যায়। এর কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।”
ময়মনসিংহ সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “এটি হাস্যকর হলেও ভয়ংকর বার্তা দেয়—ভবিষ্যতে আরও মানুষ এভাবে হয়রানির শিকার হতে পারে।”
জুলাই আন্দোলনে শহীদ সেলিম এখন জীবিত—এই বাস্তবতা শুধু আইনি ব্যবস্থার নয়, আমাদের সমাজেরও বড় ব্যর্থতা। এমন হাস্যকর অথচ ভয়ংকর ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি। নাহলে ভবিষ্যতে এর চেয়েও ভয়াবহ অপব্যবহার হতে পারে।
এ ঘটনায় প্রমাণিত হয়— আমাদের বিচার ও তদন্তপ্রক্রিয়ায় ভয়ংকর ফাঁকফোকর রয়েছে। জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ বানিয়ে মামলা দায়ের শুধু হাস্যকর নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী