

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এজাহারে বলা হয়, শনিবার বিকেলে গণঅধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা ফকির বাড়ি রোডের একটি চায়ের দোকানে দলীয় কার্যক্রম শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আসেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। মিছিলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরাও ছিলেন বলে দাবি করেছেন বাদীপক্ষ।
মিছিল থেকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা এ ধরনের বক্তব্য না দিতে অনুরোধ করলে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা রামদা, দা, চাপাতি, পিস্তল, লোহার রড ও ইট নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে গণঅধিকার পরিষদের অন্তত ২০-২৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
মামলার আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো:
বাদী শফিকুল ইসলাম সাগর বলেন, “জাতীয় পার্টি মূলত আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে কাজ করছে। আমাদের নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।”
তবে জাতীয় পার্টি অভিযোগ করেছে, গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরাই তাদের মিছিলে হামলা চালিয়েছে এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফকির বাড়ি রোডের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। মহানগর আহ্বায়ক মহসিনুল ইসলাম হাবুল বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলাম। অথচ বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে। যারা আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে, তারা গণঅধিকার পরিষদের পরিচিত মুখ।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রংপুরের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালে দলীয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি সদর রোডের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর পাল্টা আক্রমণ হয়, সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি। এক পর্যায়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা কোতোয়ালী থানার সামনে অবস্থান নেন এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “উভয় পক্ষের অভিযোগ আমরা গ্রহণ করেছি। তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
🔚 উপসংহার:
বরিশালে গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে সংঘর্ষ রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। মামলার পর পরিস্থিতি এখনও থমথমে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেবে।