প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান-মহাসচিবসহ ২৮০ জনের বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদের মামলা

gm quader 20250601021214
আজকের কথা ডেস্ক

 


🟩 সংঘর্ষের পর বরিশালে উত্তেজনা


🔷 হাইলাইটস (সংক্ষেপে মূল তথ্য):

  • ✅ বরিশালে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় জাতীয় পার্টির ২৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে গণঅধিকার পরিষদ
  • ✅ মামলার প্রধান আসামি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু
  • ✅ মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ, ২৫০ জন অজ্ঞাত
  • ✅ গণঅধিকার পরিষদের দাবি—চায়ের দোকানে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের ওপর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা রামদা, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে হামলা চালায়
  • ✅ অন্তত ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত
  • ✅ জাতীয় পার্টির পাল্টা অভিযোগ—তাদের মিছিলে হামলা ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর
  • ✅ কোতোয়ালী থানায় পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও বিক্ষোভ
  • ✅ পুলিশের আশ্বাস—তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

🔷 বিস্তারিত প্রতিবেদন:

বরিশালের রাজপথে ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। শনিবার বিকেলে গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়েছে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বসহ ২৮০ জনের বিরুদ্ধে। মামলাটি করেন গণঅধিকার পরিষদ বরিশাল মহানগরের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সাগর।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

🟨 ঘটনার বিবরণ:

এজাহারে বলা হয়, শনিবার বিকেলে গণঅধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা ফকির বাড়ি রোডের একটি চায়ের দোকানে দলীয় কার্যক্রম শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আসেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। মিছিলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরাও ছিলেন বলে দাবি করেছেন বাদীপক্ষ।

মিছিল থেকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা এ ধরনের বক্তব্য না দিতে অনুরোধ করলে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা রামদা, দা, চাপাতি, পিস্তল, লোহার রড ও ইট নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে গণঅধিকার পরিষদের অন্তত ২০-২৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

🟨 মামলার আসামিরা কারা?

মামলার আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো:

  • জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের
  • মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু
  • কেন্দ্রীয় নেতা সাইদুল ইসলাম ট্যাপা, রুহুল আমিন হাওলাদার, রত্না আমিন, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, একেএম সেলিম ওসমান
  • বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এমএ জলিল
  • মহানগর আহ্বায়ক অধ্যাপক মহসিনুল ইসলাম হাবুল
  • ছাত্রলীগ নেতা পিন্স মাহমুদ সোহেল

🟨 গণঅধিকার পরিষদের প্রতিক্রিয়া:

বাদী শফিকুল ইসলাম সাগর বলেন, “জাতীয় পার্টি মূলত আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে কাজ করছে। আমাদের নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।”

🟨 জাতীয় পার্টির পাল্টা অভিযোগ:

তবে জাতীয় পার্টি অভিযোগ করেছে, গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরাই তাদের মিছিলে হামলা চালিয়েছে এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফকির বাড়ি রোডের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। মহানগর আহ্বায়ক মহসিনুল ইসলাম হাবুল বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলাম। অথচ বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে। যারা আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে, তারা গণঅধিকার পরিষদের পরিচিত মুখ।”

🟨 প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য:

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রংপুরের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালে দলীয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি সদর রোডের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর পাল্টা আক্রমণ হয়, সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি। এক পর্যায়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা কোতোয়ালী থানার সামনে অবস্থান নেন এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

🟨 পুলিশের অবস্থান:

ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “উভয় পক্ষের অভিযোগ আমরা গ্রহণ করেছি। তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


🔚 উপসংহার:
বরিশালে গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে সংঘর্ষ রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। মামলার পর পরিস্থিতি এখনও থমথমে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেবে।


 

প্রিন্ট করুন