প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সারজিসের সমর্থকদের আটক রাখার কারোর ক্ষমতা নেই?

image 192678 1748730517
আজকের কথা ডেস্ক

 


📰 জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতা

রংপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাড়িতে হামলার ঘটনায় সেনাবাহিনীর হাতে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি ও জেলা আহ্বায়ক ইমরান আহমেদকে। শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নগরীর পায়রা চত্বর থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল তাদের পায়রা চত্বর থেকে জিজ্ঞাসাবাদে নেয়। ঘটনার সময় উক্ত চত্বরের দু’পাশের রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সেনাবাহিনী তাদের ছেড়ে দেয়।

📍 ঘটনাস্থলে হাজির সারজিস, সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা

রাত দেড়টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং ৭২ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কাইয়ুমের সঙ্গে কথা বলেন।

সারজিস বলেন, “জিএম কাদেরের বরিশাল ও রংপুর সফর আওয়ামী লীগের লোকজনকে সংগঠিত করার একটা পাঁয়তারা। যারা গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, তারা এটা মেনে নিতে পারেনি। তবে হামলার বিষয়ে আমরা স্বচ্ছ তদন্ত চাই—জিএম কাদেরের বাড়িতে আসলে কারা হামলা চালিয়েছে?”

🧾 সেনাবাহিনীর বক্তব্য: “চিহ্নিতদের শান্তির বিপক্ষে কোনো কার্যকলাপে ব্যবহার করা যাবে না”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কাইয়ুম বলেন, “কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে যদি এমন কিছু করেন যা দেশের মানুষের ক্ষতি ডেকে আনে, তা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহ্য করবে না। আমরা উভয় পক্ষের ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। তাদের নেতারা স্বীকার করেছেন, সেসব লোক তাদের দলের সদস্য। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামীকাল চিহ্নিতদের সঙ্গে নিয়ে আসবেন এবং নির্বাচনের আগে কোনো বিশৃঙ্খল কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না।”

👥 প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জিএম কাদেরের বাড়িতে হামলার আগেই পায়রা চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তর্ক হয়। সেই উত্তপ্ত অবস্থার পরেই হামলা এবং পাল্টা হামলার আশঙ্কা বাড়ে।

🎙️ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বক্তব্য

ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের ফোন করে জানতে চায় আমরা কোথায় আছি। জানালে তারা এসে ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে পরিচয় জানতে চায়। ভিডিওতে যাদের দেখানো হয়, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আমাদের কর্মী। তবে তারা কারও ওপর হামলা করেনি, এবং কারও হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না।”

🗣️ বিএনপির প্রতিক্রিয়া

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদেরকেও কিছু ফুটেজ দেখিয়েছে। সেখানে একজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। যদি দলের কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


🔹 হাইলাইটস:

  • জিএম কাদেরের রংপুর বাড়িতে হামলার ঘটনায় সেনাবাহিনী দুই ছাত্রনেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
  • সেনা কর্মকর্তা বলেন, “যারা অস্ত্র নিয়ে এসেছিল, তাদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করা হয়েছে।”
  • জাতীয় নাগরিক পার্টির সারজিস ও বিএনপির নেতারাও现场ে উপস্থিত ছিলেন।
  • দুই পক্ষই সেনাবাহিনীর সামনে দায় স্বীকার করে, অঙ্গীকার করেছে শান্তিপূর্ণ আচরণের।
  • সেনাবাহিনী বলছে, নির্বাচনের আগে কোনো অশান্তি বরদাশত করা হবে না

প্রিন্ট করুন