প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘ইউনূস পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে চান’ — অন্তর্বর্তী সরকারের নামে দীর্ঘমেয়াদি শাসনের অভিযোগে তোলপাড়

1748752702 e06d061a77a7bde916b8a91163029d41
আজকের কথা ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। খ্যাতনামা সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খালেদ মুহিউদ্দীন সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “ড. ইউনূস আসলে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নাম করে তিনি দীর্ঘমেয়াদি একটি শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছেন।”

🔥 “ইউনূস ক্ষমতা ছাড়তে চান না”—মুহিউদ্দীনের অভিযোগ

“একটা অন্তর্বর্তী সরকার কখনোই পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করে না,”—এমন মন্তব্য করে খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, “ড. ইউনূসের কথাবার্তা, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, এবং গণমাধ্যমে তার পক্ষে পরিচালিত প্রচারণা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, তিনি এই সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনের প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে চাইছেন।”

তিনি আরো বলেন, “ড. ইউনূস বারবার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আগের সরকারের সমালোচনা করেন। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি—একটা চুক্তি দেখান তো, যেটা তিনি বাতিল করেছেন ভারতের সঙ্গে! ভারতের স্বার্থে কিছুই তো বন্ধ হয়নি। বরং প্রথমেই তিনি টাকা বরাদ্দ করেছেন যেসব প্রকল্প ভারতের সাথে সংযুক্ত।”

🏛️ “বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করছেন”—কাদের উদ্দেশ্যে বললেন মুহিউদ্দীন?

সাবেক উপদেষ্টা পরিষদসহ বিভিন্ন ‘জাতীয়’ ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী যে আজকের সরকারের পর্দার আড়ালের চালক—তা নিয়েও মুখ খুলেছেন মুহিউদ্দীন। তিনি বলেন, “যারা এখন ইউনূসের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারাই বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করছেন। তাদের মুখে বিএনপিকে লুটপাটকারী বলাটা হাস্যকর। কারণ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না হয়ে বিদেশিদের খুশি করাই যদি মূল উদ্দেশ্য হয়—তাহলে সেটা কি গণতন্ত্র?”

📢 সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

খালেদ মুহিউদ্দীনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন,

“ড. ইউনূস কি সত্যিই একজন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী নেতা, নাকি করপোরেট ফ্যাসিজমের নতুন মুখ?”

ফেসবুকে একজন সাংবাদিক লিখেছেন,

“যে সরকার জনগণের ভোটে আসেনি, সে যদি ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়—তা গণতন্ত্রের জন্য ভয়ঙ্কর সংকেত।”

অন্যদিকে কিছু নেটিজেন তার এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।

🧠 রাজনৈতিক বিশ্লেষক: “ড. ইউনূস নিজেই হয়ে উঠছেন একটি বিকল্প ক্ষমতাকাঠামো”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তানভীর হাসান বলেন, “একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন নীতিগতভাবে নিরপেক্ষ থাকা উচিত, তখন যদি তার প্রধান নিজেই ভবিষ্যতের রোডম্যাপ নির্ধারণ করতে শুরু করেন, সেটি স্পষ্টতই সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলে। ইউনূস এখন শুধু একজন প্রশাসক নন, তিনি হয়ে উঠছেন একটি বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিকল্প রাজনীতি বলেই শুরু হয়েছিল, এখন সেটি কি বিকল্প স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হচ্ছে?”

🛡️ ইউনূসপন্থী প্রতিক্রিয়া: “অসৎ উদ্দেশ্যেই এসব বলা হচ্ছে”

এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ড. রাশেদ আনোয়ার বলেন, “খালেদ মুহিউদ্দীনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। ইউনূস কখনো বলেননি তিনি পাঁচ বছর থাকতে চান। এসব বলা হচ্ছে তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিতর্কিত করার জন্য। বাস্তবে তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য বলে বারবার বলেছেন।”

📌 উপসংহার

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়, তবে খালেদ মুহিউদ্দীনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিতর্ক যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন সময় বলবে, এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনী পরিবেশ কতটা প্রভাবিত করে।


আপনার মতামত দিন
আপনার এলাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম কেমন চলছে? কমেন্টে জানান অথবা আমাদের ইনবক্সে লিখুন।


সংবাদটি লিখেছেন: প্রতিবেদক দল, জয় বাংলার জয়
যোগাযোগ: news@dainikajkerkotha.com


 

প্রিন্ট করুন